উরিরচরে ২৪ ঘন্টাতেও খোঁজ মিলেনি নিখোঁজ ৩জনের

কেউ বলছে থ্রিপল মার্ডার,কেউ বলছে গুঞ্জন।

0 ৮৭৫,৭৭৭

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উরিরচরের থ্রিপল মার্ডার হয়েছে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।রাহাত,সাদ্দাম ও শরীফ।তাদের পরিবারের দাবি তারা ৩জনই নিখোঁজ।২৪ ঘন্টায়ও এখনো খোঁজ মিলেনি তাদের।জীবিত আছে নাকি মারা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে থ্রিপল মার্ডার হয়েছে।কেউ বলছে রাহাতের মাথা কেটে আলাদা করে ফেলছে আবার কেউ বলছে ৩জনই নিখোঁজ।৩জনের মধ্যে রাহাতের বাড়ি উরিরচর,সাদ্দামের বাড়ি সন্দ্বীপ রহমতপুর বলে জানা গেছে।বাকীদের পরিচয় নিশ্চিত নয়।

সঠিক তথ্য নেই থানা পুলিশের কাছে।এমনকি এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার কোন অভিযোগ করতে যায়নি থানায়।পুলিশের দাবি তাদের কাছে কেন তথ্য নেই।তবে রাহাত,সাদ্দাম,শরীফ ও সৌরভ গতকাল থেকেই নিখোঁজ রয়েছে।

এই বিষয়ে উরিরচর স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন গতকাল উরিরচর সমিতির হাট এলাকায় রাহাত,সাদ্দাম,শরীফ,সৌরভসহ কয়েকজনকে ছোট শাহিন নামে একজন ধরে এনে মারধর করেছে।কিন্তু তারা দেখেননি বিষয়টি।লোকমুখে সবাই শুনেছে তারা কেউ বেঁচে নেই।কিন্তু সঠিক তথ্য নেই কারো কাছে।এমনকি কারো কাছে দুই পক্ষের হামলার কোন ফুটেজ অথবা ছবি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।তবে এই চারজনেই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কাল থেকেই।

স্থানীয়দের মতে,প্রায় ২০/৩০জন সন্ত্রাসী এই চারজনসহ আরো কয়েকজনকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে কিন্তু কোথায় নিয়ে গেছে তা বলতে পারেননি।তবে অনেকের দাবি ছোট শাহিন নামে একজন সন্ত্রাসী তার লোকজন নিয়ে এই চারজনসহ আরো কয়েকজনকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

তবে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়,যেই শাহিনের কথা বলা হচ্ছে সেই শাহিনসহ নিখোঁজ সবাই যুবলীগ করতো।কিন্তু কয়েক বছর ধরে শাহিনের সাথে রাহাতের রাজনৈতিক ঝামেলা লেগেই আছে।ইতিমধ্যেই ৫ আগষ্টের পর ছোট শাহিন বিএনপিতে যোগ দিয়ে রাহাতসহ ওই গ্রুপকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।ঘটনার সুত্রপাত রাজনৈতিক বলেই বলছেন উরিরচরের স্থানীয় বাসিন্দারা।তবে তাদের মারতে কেউ দেখেনি এমনটাই বক্তব্য তাদের।

এদিকে রাহাতের মায়ের দাবি,গতকাল ইফতারের সময় তার ছেলেকে শাহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তার ছেলে কোন খোঁজ মিলেনি।তার মোবাইল ফোনটা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।আমার ছেলে বেঁচে আছে না মারা গেছে এখনো কিছুই জানতে পারছি না।আমাদের আত্মীয় স্বজনরা ছেলের খবর নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ফেসবুক পোস্টের রাহাত মার্ডারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা এখনো কোন খোঁজ পাচ্ছি না আমার ছেলে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে কিন্তু তারা কিভাবে লিখছে আমি জানি না।তবে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি আমার ছেলের খবর এনে দিন আপনারা।

রাহাতের মায়ের অভিযোগ অনুযায় ছোট শাহিনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে কোম্পানিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,রাহাতসহ যে চারজনের কথা বলছেন অথবা পোস্ট করা হচ্ছে তাদের মার্ডার করা হয়েছে তাদের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায় পড়েছে।

এটা সন্দ্বীপ থানার আওতাধীন।কিন্তু ঘটনার স্থান সমিতির হাট এলাকা বলায় তিনি বলেন,আমাদের কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসে নাই।ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার পর আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি কিন্তু ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।তবুও কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার একই বক্তব্য যে,এটা কোম্পানিগঞ্জ থানার আওতাধীন।ওই থানায় যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।

কিন্তু রাহাতসহ নিখোঁজ সবার বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলার আওতাধীন বলার পর একই কথা বলেন।আমরা কোন অভিযোগ পাইনি।এমনকি নিখোঁজ কি না তাও জানিনা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!