
এক মাসের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন দাম ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিইআরসি। নতুন নির্ধারিত দাম একই দিন রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে অটোগ্যাসের প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
নতুন মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে এলপিজি বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কমিশন ও চার্জও বাড়ানো হয়েছে। আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ, ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তখনও সিলিন্ডারটি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের এলপিজি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পর আমদানিকারকেরা সরবরাহ কমিয়ে দেন বলে সংশ্লিষ্ট বাজার পরিস্থিতিতে উঠে আসে। এতে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত দামের সিলিন্ডার কোনো কোনো এলাকায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।