
কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে সম্মানি অথবা বখশিশের নামে মোটা অংকের অর্থ দাবি করে পর্যটকদের হয়রানি করার অভিযোগ আছে স্পিডবোট চালকদের বিরুদ্ধে।ফাঁকা থাকা আসনে যাত্রী বসিয়ে টাকা দাবি করে তারা।টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় যাত্রীদের।এভাবে জবরদস্তি করে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করছে তারা।ঘাটের স্পিডবোট চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বখশিশ বা সম্মানির টাকা চেয়ে পর্যটকদের বেকায়দায় ফেলে অর্থ নিয়ে নিচ্ছে।
কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের প্রতিটি স্পিডবোটে প্রতিবার ২১ জন করে যাত্রী বহন করা হয়।চালক দাঁড়িয়ে স্পিডবোট চালান।এই কারণে চালকের আসনটি ফাঁকা থাকে।সেখানে যাত্রীদের কাউকে বসায় চালক।ঘাটে পৌঁছার পর ‘সম্মানি’ দাবি করে।২০ থেকে ৩০ টাকা দিতে চাইলেও চালকের দাবি থাকে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা। মাত্র ২৫ মিনিটের যাত্রার জন্য ৩৮০ টাকা খরচ করে টিকিট কাটার পর আবার চালককে ১০০ টাকা দিতে আপত্তি করেন কেউ কেউ।কিন্তু চালকের সিটে বসেছেন কেন এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জোর করে টাকা আদায় করে নেয় চালক ও তার সঙ্গীরা।
গত মঙ্গলবার এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের এক যাত্রী।তিনি বলেন, আমি যখন স্পিডবোটে উঠলাম,তখন চালক আমাকে তার ফাঁকা সিটটিতে বসতে বলল।কিন্তু ঘাটে আসার পর ১০০ টাকা দাবি করে বসলো।আমি ৩০ টাকা দিতে চাইছি,সে গালাগালি করছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,ইকবাল নামের ওই স্পিডবোট চালকের মাসের বেতন ১৫ হাজার টাকা।কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের প্রত্যেক স্পিডবোট চালককে প্রতিদিন গড়ে ১০ ট্রিপ যাত্রী পরিবহন করতে হয়। প্রতিবার সে কাউকে না কাউকে বসিয়ে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা আয় করে।এভাবে প্রতিদিনই তার বাড়তি আয় প্রায় ১ হাজার টাকা।
এই বিষয়ে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের ইজারাদার এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন,স্পিডবোটে চালকের আসনে কারো বসার অনুমতি নেই।কিন্তু কেউ যদি বসে ড্রাইভারকে টাকা দেয়,সেটা তার ইচ্ছে,বকশিস দেওয়ার কোন নিয়ম নেই।আমরা অভিযোগ পেলে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেই।
চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাতায়াতের ৬টি ঘাট থাকলেও বর্তমানে কার্যকর রয়েছে কেবল মাত্র কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট।ফলে বিকল্প না থাকায় এই ঘাট হয়ে দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে বাড়ি যেতে হয় দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দাদের।এই নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপবাসী।