
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি)ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার ঘটনায় ছয়জন জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।তাদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তিনজন বহিরাগত।ছয় দিনের আগের ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।
তিনি বলেন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মোট ছয়জন জড়িত।ছাত্রীকে মারধরের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণেরও চেষ্টা করে তারা।যৌন হেনস্তার ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলেন,ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আজিম হোসাইন,নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নুরুল আবছার এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের নুর হোসেন শাওন।বহিরাগতরা হলেন সাইফুল,হাটহাজারী কলেজের অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানা এবং সাইফুল।তাদের মধ্যে দুই সাইফুল ছাড়া বাকি চারজন গতরাতে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গত ১৯ জুলাই প্রক্টরের কাছে হেনস্তার লিখিত অভিযোগ করেন চবির ওই ছাত্রী।এতে তিনি জানান,১৭ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ও তার বন্ধু প্রীতিলতা হলে ফেরার সময় কাছের একটি সড়কে কয়েক যুবক তাদের পথরোধ করেন।তাদের মারধর করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে ঝোঁপে নিয়ে যান যুবকরা।
ছাত্রী আরও জানান,তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ভিডিও করা হয় এবং সেই ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চান যুবকরা।তার বন্ধু এর প্রতিবাদ করলে তার ওপরও নির্যাতন করা হয়।পরে যুবকরা দুজনের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যান।ঘটনাটি জানাজানির পর উত্তাল হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।
আজ সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন,জিজ্ঞাসাবাদে আজিম ওই ছাত্রীকে নিপীড়নের কথা স্বীকার করেছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন চাঁদগাঁও ক্যাম্প র্যাবের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।
তিনি বলেন,আজিম ওই ছাত্রীকে নিপীড়নের কথা স্বীকার করেছে।ঘটনাটি ‘ইনস্ট্যাট’ ঘটেছে বলে দাবি করেছে সে।ঘটনার কোন প্ল্যান বা পূর্ব পরিকল্পনা ছিলনা বলে জানিয়েছে মূলহোতা আজিম।ব্রিফিংয়ে বলা হয়,গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী।বাকি দুইজন বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।