
দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন দুটি কূপ থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যেতে পারে। কোম্পানির বর্তমান কূপমুখের দামে এসব গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দামে ১০ বছরে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের পরিচালনাধীন ছয়টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাসের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।
২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিএফসিএল চীনের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে এসব জরিপের তথ্য পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ১৬টি ইনফিল কূপ এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে দুটি কূপ খনন, দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ এবং গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ করা হবে।
২০২৬ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ব্যয় যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।