
গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে অভিনব কায়দায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ জব্দ করা হয়েছে।সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আবদুল আহাদ।এদেশে এত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ এই প্রথম ধরা পড়লো বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রোববার(২৪ জুলাই)বিকেলে কাওরান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
শনিবার(২৩ জুলাই)র্যাব-১১,নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল সকালে সোনারগাঁ থানার টিপর্দি সালাউদ্দিনের পার্কিং স্ট্যান্ডের সামনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক বিভিন্ন মালবাহী ট্রাক এবং কন্টেইনারসহ টেইলার তল্লাশি শুরু করে।
তল্লাশির এক পর্যায়ে সন্দেহজনক দুটি কন্টেইনার টেইলার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের নির্ধারিত মূল্য ৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাটসহ মূল্য দাঁড়ায় ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এরপর এই অবৈধ চালান আমদানি কারবারের সাথে জড়িত ঢাকার ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ দেশি-বিদেশি মুদ্রা আটক করা হয়। যার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা, নেপালি রুপি ১৫ হাজার ৯৩৫, ভারতীয় রুপি ২০ হাজার ১৪৫, চায়না ইওয়ান ১১ হাজার ৪৪৩, ইউরো ৪ হাজার ২৫৫, থাই বার্থ ৭ হাজার ৪৪০, সিংগাপুর ডলার ৯ এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ১৫।
এসময় মো. নাজমুল মোল্লা,সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে তাদের দেওয়া তথ্যে রোববার বিমান বন্দর এলাকা থেকে এই চক্রের অন্যতম হোতা আব্দুল আহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, এই মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আহাদ এবং মিজানুর রহমান আশিক সম্পর্কে সহোদর।তারা ১ বছর ধরে এ অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত।তারা সি অ্যান্ড এফ’র যোগসাজশের মাধ্যমে অবৈধ মাদক আমদানি কার্যক্রম করে থাকে।মাদক আমদানির ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন কোম্পানির কাগজপত্র ব্যবহার করে থাকে।চক্রটি দেশে টিভি ও গাড়ির পার্টস ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিপণন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।অবৈধ মাদক বিদেশ থেকে আনার পরে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, রাজধানীর বংশাল ও ওয়ারীতে ওয়্যার হাউসে রাখা হয়।পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময় অবৈধ মাদক বিপণন করে থাকে।ক্ষেত্রবিশেষে পরিবহনকৃত ট্রাক/কন্টেইনার থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করে থাকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন তিনি বলেন,এদেশে এত বড় অবৈধ বিদেশি মদের চালান এটাই প্রথম ধরা পড়ল। এর মূলহোতা গ্রেপ্তারকৃত আহাদ হলেও নেপথ্যে আর কেউ আছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা হবে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।