
বন্যায় দেশের পূর্বাঞ্চল তথা সিলেট,হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।এসব অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষকে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা।
এবার তাদের মধ্য ৬০০ পরিবারকে ঘর বানিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ব্যারিস্টার সুমন। বৃহস্পতিবার(১৪জুলাই)বিকেলে তিনি এসব কথা জানান।
সুমন বলেন,সাতদিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বানভাসি মানুষের জন্য সাত থেকে আট লাখ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছি।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পৌঁছলাম।
চুনারুঘাট কেন গেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের জন্য তিন কোটি টাকার মতো অনুদান সংগ্রহ করেছি।এর মধ্যে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা বিভিন্নভাবে অনুদান দেওয়া হয়েছে।আর এখনো অবশিষ্ট আছে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা।আগামীতে চিন্তা হলো যাদের বাড়ি তৈরির সামর্থ্য নেই তাদের ঘর বানিয়ে দেওয়ার।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন,আমার বিশ্বাস ঘর তৈরির কাজ শুরু করে দিলে আরও অনেক মানুষ সহযোগিতা করবেন।বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রায় লাখেরও বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এরমধ্যে যারা বিধবা, মুক্তিযোদ্ধা,একেবারে অসহায়,তারপর মসজিদ, মাদরাসা-মন্দির যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৈরি করার চিন্তা রয়েছে।
কত টাকার মধ্যে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এখনো ঠিক করিনি।এটা নিয়ে পরিকল্পনা করে তারপর কাজে হাত দেবো।
তিনি বলেন,দেড়শর বেশি ট্রাকে ত্রাণ সরবরাহ ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নগদ অর্থ সাহায্য করেছি।কিছু মানুষ আমার কাছে সাহায্যের টাকা দেওয়ার সময় বলেই দিয়েছেন,টাকাগুলো যেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজে খরচ করি।এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি,বাকি যে টাকা আছে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখের মতো,আরও আসতে পারে।এসব টাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য খরচ করবো।আরও কিছু টাকা ম্যানেজ করে প্রায় ৬০০ ঘর বানাতে চাই।
সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন,এর আগে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারকে শুকনা খাবার দিয়েছি।তাদের মাঝে বিতরণ করেছি নগদ টাকাও।এছাড়া আমি যত অনুদান সংগ্রহ করেছি ফেসবুকে সব টাকার হিসাব তুলে ধরার চেষ্টা করবো।কারণ মানুষের এই টাকার ওপর আমার ব্যক্তিগত কোনো আগ্রহ নেই।