
সন্দ্বীপের নারীদের অগ্রযাত্রায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উদ্যোক্তা দিলরুবা আক্তার ভূঁইয়া।শিক্ষা,দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতার সমন্বয়ে তিনি আজ স্থানীয়ভাবে অনুপ্রেরণার নাম।
সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্তান দিলরুবা আক্তার ভূঁইয়া তাঁর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে।শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ব্যবসা ও সংগঠনমূলক কার্যক্রমেও নিজেকে যুক্ত করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি “গ্রাম হার্ভেস্ট” নামের একটি উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
“গ্রাম হার্ভেস্ট”-এর মূল লক্ষ্য হলো—দেশের গ্রামীণ কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া,যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান।
প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের তালিকায় রয়েছে গুড়া মসলা, চাল,ডাল,চিনি,চানাচুর,চিড়া,শুঁটকি ও চিংড়ি বালাচাওসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য।এসব পণ্যের ক্ষেত্রে মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।আধুনিক প্যাকেজিং,মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
দিলরুবা আক্তার ভূঁইয়া বলেন,গ্রাম হার্ভেস্ট একটি বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ,যার লক্ষ্য দেশের গ্রামীণ কৃষক ও উৎপাদকদের পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া।আমরা মানসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বিশ্বাস করেন,গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। “গ্রাম হার্ভেস্ট” শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ—যা কৃষক, উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছে।
সন্দ্বীপের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার এই ধারা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।আর সেই পথপ্রদর্শকদের একজন হিসেবে দিলরুবা আক্তার ভূঁইয়া ইতোমধ্যেই নিজের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।