
সন্দ্বীপের হরিশপুর ইউনিয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হছের মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘প্যানেল চেয়ারম্যান’ পরিচয় দিয়ে সিল স্বাক্ষর জাল করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার স্থানান্তর ও রোহিঙ্গাদের ভোটার করার করার আবেদনপত্রে প্রত্যয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নোয়াখালী,নারায়ণগঞ্জ,ভাসনচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হরিশ-পুর ইউনিয়নে ভোটার স্থানান্তর ও নতুন ভোটারের প্রায় অর্ধশতাধিক আবেদন করেন।বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জানার সাথে সাথে ১০টি আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।অভিযুক্ত ব্যক্তির মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার হরিশপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের সন্দ্বীপ উপজেলার হরিশপুর ইউনিয়নে ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রায় অর্ধ শতাধিক আবেদন উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা পড়ে।এসব আবেদনপত্রে ‘প্যানেল চেয়ারম্যান’ পরিচয়ে সিলমোহর ও স্বাক্ষর থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের নজরে আসে।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে ১০টি আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমানে নির্বাচিত ইউপি সদস্য না হলে তিনি কীভাবে ‘প্যানেল চেয়ারম্যান’ পরিচয় ব্যবহার করেছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এ ধরনের সিল মোহর ব্যবহার করেছেন।একই সঙ্গে অতীতে একই পরিচয়ে তিনি অন্য কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক নথিতে ত প্রত্যয়ন,প্রত্যয়ন,সুপারিশ কিংবা সনদ দিয়েছেন কি না,সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি,বিষয়টি শুধু আবেদন স্থগিত রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।একই সঙ্গে ‘প্যানেল চেয়ারম্যান’ পরিচয় ব্যবহার করে অতীতে কোনো সরকারি কাজে প্রত্যয়ন,সুপারিশ বা সনদ দেওয়া হয়েছে কি না,তা খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান,ইসমাঈল হোসেন ৫ আগষ্টের পর থেকে হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের “প্যানেল চেয়ারম্যান” দাবি করে আসছেন।সরকারি সকল কাজ,সহায়তাসহ সকল সুযোগ সুবিধা তিনি নিজেই তার মনের মতো লোকদের মাঝে বিতরণ করেন।এমনকি পরিষদের চাবি পর্যন্ত তার কাছে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা জানান,সব ধরনের সনদ ইসমাঈল হোসেন দিয়ে থাকেন।তার কথায় চলে পরিষদ।ভয়ে হরিশপুর ইউনিয়নের লোকজন কিছুই বলেন না তাকে।এমনকি সরকারি জায়গা পর্যন্ত দখলে নিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন,হরিশপুর ইউনিয়নে ভোটার স্থানান্তরের জন্য জমা দেওয়া ১০টি আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে।প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে।তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হবে।কেউ যদি বেআইনিভাবে কোনো পদবি,সিলমোহর বা পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন,তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।