
সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও দিরাই উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—দোয়ারাবাজার উপজেলার ‘মিতালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এবং দিরাই উপজেলার ‘আলহাজ্ব আব্দুল মুতলিব হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ’।
প্রতিষ্ঠান দুটির এমন চরম ফল বিপর্যয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা এজন্য শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতিকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
জানা গেছে, দোয়ারাবাজারের মিতালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
স্থানীয় অভিভাবকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব, অনিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ধরে রাখতে না পারার কারণেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাবেই ফলাফল এমন হতাশাজনক হয়েছে। শিক্ষার মান ফেরাতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
দোয়ারাবাজারের সুরমা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ও অভিভাবক জুবায়ের আহমেদ জানান, অন্যান্য কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে এ কলেজে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত ক্লাস না হওয়া ও শিক্ষক সংকটের কারণে ফলাফলে এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মিতালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, কলেজটি নতুন হওয়ায় শিক্ষক সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মিতালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ময়না মিয়া বলেন, "শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর প্রথম এক-দুই মাস কিছুটা নিয়মিত ছিল। এরপর শত চেষ্টা করেও তাদের আর ক্লাসে আনা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিতিই ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।"
অন্যদিকে, দিরাই উপজেলার টঙ্গর এলাকার আলহাজ্ব আব্দুল মুতলিব হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো একাদশ শ্রেণিতে (মানবিক বিভাগ) শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় ১৫ জন উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন শিক্ষার্থী। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজ শাখার পাঠদানের মান ও অধ্যক্ষের যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রই সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আলহাজ্ব আব্দুল মুতলিব হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান বলেন, স্কুলের ১১ জন শিক্ষক এবং দুজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে কলেজ শাখার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূলত শিক্ষক সংকটের কারণেই ফলাফল এমন হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নেই—এমন দাবি অস্বীকার করে তিনি আগামী বছর ফল ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।