
ঋণ জালিয়াতির করে সোনালী ব্যাংকের এক কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার ২২০ টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবিরসহ(এমডি)৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।রবিবার(২৪ জুলাই)ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত ৯ আসামি হলেন-সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির,উপব্যবস্থাপনা পরিচালক(ডিএমডি)মাইনুল হক, জিএম ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান,ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন,এজিএম কামরুল হোসেন খান ও সাইফুল হাসান এবং প্যারাগন নীট কম্পোজিট লিমিটেডের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা ও পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আসামিদের মধ্যে ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন বাদে বাকি ৮ আসামিকে দুই ধারায় ১৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।এরমধ্যে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রতারণার দায়ে তাদের আরো সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড,৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড,অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্যারালাইসিস হয়ে অসুস্থ থাকায় আলতাফ হোসেনের সাজা কমিয়ে ৮ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।এরমধ্যে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে তাকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রতারণার দায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড,৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড,অনাদায়ে তাকে আরো তিন মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
দণ্ডিত ৯ আসামির সাজা একত্রে চলবে বলে আদেশে উল্লেখ করেন আদালত।সেক্ষেত্রে আট আসামিকে ১০ বছর ও আলতাফ হোসেনকে ৫ বছর সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে ৯ আসামিকে এক কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার ২২০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।যা প্রত্যেকের কাছ থেকে সমহারে রাষ্ট্রের অনুকূলে আদায় করা হবে।সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।রায় ঘোষণার সময় চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।অন্যদিকে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
জানা যায়,১ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার ২২০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি দুদকের সহকারি পরিচালক মশিউর রহমান রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ২২ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য,গত ২৫ মে সোনালী ব্যাংকের ২৭ লাখ ৫০ হাজার ৬৮১ টাকা আত্মসাতের আরেকটি মামলার রায়ে সোনালী ব্যাংকের এমডি হুমায়ুন কবিরসহ ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেন আদালত।