১২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালিশহরে সম্পত্তির বিরোধের জেরে পুত্রের হাতে পিতা খুনের ঘটনায় ২ বছর পর গ্রেফতার ২

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 10
Print

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় গত ০৬/০৬/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বাবুর্চি মীর মজিবুর রহমান খান(৬০) ফটিকছড়ি থেকে সিএমপি কোতোয়ালী থানা এলাকায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন।মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে পরদিন ০৭/০৬/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টায় এক নারীর ফোনকল পেয়ে বাঁশখালী যাওয়ার কথা বলে তিনি মেয়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মেয়ে সালমা খানম ০৮/০৭/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে কোতোয়ালী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তীতে ০৬/১১/২০২৪ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সিআর মামলা নং-২৭০৩/২৪, তারিখ ০৬/১১/২০২৪,ধারাঃ ৩৬৫ দণ্ডবিধি(অপহরণ)মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। সিআর মামলার তদন্তকালে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর আবেদনের প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৭, তারিখঃ ০৩/০৯/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ধারাঃ ৩৬৫ পেনাল কোডে মামলাটি রুজু হয়।বর্তমানে এসআই (নিঃ)আযমগীর মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ বিকেলে কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভিকটিমের ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বেলাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানায় যোগাযোগ করে জানা যায় যে, ঘটনার তারিখ ও সময়ে হালিশর থানার মাধ্যমে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে।

আসামীর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক ০২ বছর পরে পিবিআই কর্তৃক লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। এছাড়াও আসামি বেলাল এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪/০৬/২০২৬ তারিখ ভোরে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার ঘেড়ামারা গ্রাম থেকে সহযোগী আসামি আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।বেলাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই-এর তদন্তে এবং আসামি বেলালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মীর মজিবুর রহমান খানকে তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। বেলাল মনে করত, তার পিতা তাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছেন এবং অবশিষ্ট জমিও বিক্রি করে দিতে পারেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক পরিচিত নারীর মাধ্যমে ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। ০৭/০৬/২০২৪ তারিখে বাকলিয়া এলাকার ওই নারীর বাসায় ডেকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল ভিকটিমকে হালিশহর এলাকায় নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সঙ্গে অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

হালিশহরে সম্পত্তির বিরোধের জেরে পুত্রের হাতে পিতা খুনের ঘটনায় ২ বছর পর গ্রেফতার ২

Update Time : ০৬:৪১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Print

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় গত ০৬/০৬/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বাবুর্চি মীর মজিবুর রহমান খান(৬০) ফটিকছড়ি থেকে সিএমপি কোতোয়ালী থানা এলাকায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন।মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে পরদিন ০৭/০৬/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টায় এক নারীর ফোনকল পেয়ে বাঁশখালী যাওয়ার কথা বলে তিনি মেয়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মেয়ে সালমা খানম ০৮/০৭/২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখে কোতোয়ালী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তীতে ০৬/১১/২০২৪ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সিআর মামলা নং-২৭০৩/২৪, তারিখ ০৬/১১/২০২৪,ধারাঃ ৩৬৫ দণ্ডবিধি(অপহরণ)মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। সিআর মামলার তদন্তকালে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর আবেদনের প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৭, তারিখঃ ০৩/০৯/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ধারাঃ ৩৬৫ পেনাল কোডে মামলাটি রুজু হয়।বর্তমানে এসআই (নিঃ)আযমগীর মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩/০৬/২০২৬ তারিখ বিকেলে কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকা থেকে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভিকটিমের ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বেলাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহর থানায় যোগাযোগ করে জানা যায় যে, ঘটনার তারিখ ও সময়ে হালিশর থানার মাধ্যমে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে।

আসামীর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই পূর্বক ০২ বছর পরে পিবিআই কর্তৃক লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। এছাড়াও আসামি বেলাল এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪/০৬/২০২৬ তারিখ ভোরে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার ঘেড়ামারা গ্রাম থেকে সহযোগী আসামি আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।বেলাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই-এর তদন্তে এবং আসামি বেলালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মীর মজিবুর রহমান খানকে তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। বেলাল মনে করত, তার পিতা তাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছেন এবং অবশিষ্ট জমিও বিক্রি করে দিতে পারেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক পরিচিত নারীর মাধ্যমে ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। ০৭/০৬/২০২৪ তারিখে বাকলিয়া এলাকার ওই নারীর বাসায় ডেকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল ভিকটিমকে হালিশহর এলাকায় নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সঙ্গে অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।