০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ক্রিস্টিয়ানো রোলাদোর’ ওপর জলদস্যুর আক্রমণ।

Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12
Print

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ‘এমভি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’ নামের একটি পণ্যবাহী লাইটার জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই হামলায় চারজন নাবিক আহত হওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ভাসানচর থেকে আনুমানিক ১৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের ফুলতলা বয়া সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

জাহাজটির মাস্টার তারেক মুঠোফোনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সীবিচ এলাকা থেকে আমদানিকৃত ভুসি বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ‘এমভি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’। দুপুরের দিকে জাহাজটি ফুলতলা বয়া এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জনের দস্যুদল একটি দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে সেটির গতিপথ রোধ করার চেষ্টা করে।

হামলার শুরুতে জলদস্যুরা জাহাজ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে নাবিক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সশস্ত্র দস্যু জাহাজে উঠে কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তারা জাহাজের বিভিন্ন কক্ষের কাচ ভাঙচুর চালায় এবং নাবিকদের কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

মাস্টার তারেক জানান,একপর্যায়ে জাহাজটির গতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিলে জলদস্যুরা বাধ্য হয়ে নেমে কেটে পড়ে। এই হামলায় সুমনসহ মোট চারজন নাবিক আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাতিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জাহাজটি বর্তমানে পুনরায় নারায়ণগঞ্জের পথে যাত্রা করছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নৌপথে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। কিন্তু একটি চক্র বেআইনিভাবে নদীতে জাল ফেলে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছে, যার সুযোগ নিয়েই জলদস্যুদের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জলদস্যুদের এমন বেপরোয়া আচরণে নৌযান মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং পুরো নৌপথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।”

সন্দ্বীপ চ্যানেলের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দিনের আলোতে এমন দুঃসাহসিক জলদস্যুতার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। নৌপথে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি ও জলদস্যু বিরোধী জোরালো অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

‘ক্রিস্টিয়ানো রোলাদোর’ ওপর জলদস্যুর আক্রমণ।

Update Time : ১২:১৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ‘এমভি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’ নামের একটি পণ্যবাহী লাইটার জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই হামলায় চারজন নাবিক আহত হওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ভাসানচর থেকে আনুমানিক ১৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের ফুলতলা বয়া সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

জাহাজটির মাস্টার তারেক মুঠোফোনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সীবিচ এলাকা থেকে আমদানিকৃত ভুসি বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ‘এমভি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’। দুপুরের দিকে জাহাজটি ফুলতলা বয়া এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জনের দস্যুদল একটি দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে সেটির গতিপথ রোধ করার চেষ্টা করে।

হামলার শুরুতে জলদস্যুরা জাহাজ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে নাবিক ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সশস্ত্র দস্যু জাহাজে উঠে কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তারা জাহাজের বিভিন্ন কক্ষের কাচ ভাঙচুর চালায় এবং নাবিকদের কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

মাস্টার তারেক জানান,একপর্যায়ে জাহাজটির গতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিলে জলদস্যুরা বাধ্য হয়ে নেমে কেটে পড়ে। এই হামলায় সুমনসহ মোট চারজন নাবিক আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাতিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জাহাজটি বর্তমানে পুনরায় নারায়ণগঞ্জের পথে যাত্রা করছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নৌপথে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। কিন্তু একটি চক্র বেআইনিভাবে নদীতে জাল ফেলে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছে, যার সুযোগ নিয়েই জলদস্যুদের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জলদস্যুদের এমন বেপরোয়া আচরণে নৌযান মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং পুরো নৌপথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।”

সন্দ্বীপ চ্যানেলের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দিনের আলোতে এমন দুঃসাহসিক জলদস্যুতার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। নৌপথে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি ও জলদস্যু বিরোধী জোরালো অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।