অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ না করলে আপনি হবেন তার বড় শিকার-হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি

সমাজে কোনো অন্যায়-অনাচার দেখা দিলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করা উচিত।সময় মতো যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা না হয়,তাহলে এর ফল গোটা সমাজকে ভোগ করতে হয়।আপনি নিজেও হবেন তার বড় শিকার।

আমাদের সমাজে এখন  অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে কেউ আগ্রহ দেখায় না।চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হাজারো অন্যায়কে ঠাণ্ডা মাথায় এড়িয়ে চলে। অন্যায়ের প্রতিবাদকে তারা অযথা ঝামেলায় জড়ানো মনে করে।এটা তার কাজ নয় মনে করে সবাই।অথচ সন্ত্রসবাদ বা অন্যায় যদি সমাজে নিয়মে পরিণত হয় এর ফল সবাইকে ভোগ করতে হয়। 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,একটি এলাকায় যদি সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ অপরাধ শুরু করে তাহলে আপনিও তাদের খপ্পরে পড়বেন।আজ না হয় আগামীকাল।যদি মনে করা হয়,আমার তো কোন ক্ষতি করছে না,ধরে নিন আজকে আপনার প্রতিবেশী সন্ত্রাসের শিকার হওয়ার সময় আপনি এগিয়ে না যাওয়ায় আগামীকাল আপনি সন্ত্রাসকে একাই মোকাবেলা করবেন।আর প্রতিবেশীর উপর অন্যায় হলে আপনিসহ দুইজনে মোকাবেলা করলেন।সেজন্য সমাজে অন্যায়-অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে সবাই এক হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। 

একইভাবে ধরুন সমাজে মাদকাসক্ত বেড়ে গেল।আপনি ধরে নিলেন,আমি তো মাদকাসক্ত না।তাহলে আমার সমস্যা কী?আপনার সমস্যা হল মাদকাসক্ত বাড়লে সমাজে চুরি বাড়বে,ডাকাতি বাড়বে,সন্ত্রাস বাড়বে।এতে আপনার ঘর-বাড়ি চুরি-ডাকাতি হবে। তাহলে আপনি মাদকাসক্তের কুফলের বাহিরে গেলেন কীভাবে? 

সিদ্ধান্ত আপনার,অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তা থামাবেন না কি তার শিকার হবেন।মনে রাখবেন,একটা সমাজে অপরাধ তখনই বেড়ে যায়, যখন অপরাধী বারবার অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। আর নতুন অপরাধীরা পুরোনো অপরাধীরা বাঁধা না পাওয়ায় তারাও উৎসাহিত হয়।

সাধ্যমতো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি মানুষের ঈমানি দায়িত্ব।রাসুলুল্লাহ(সা.)ইরশাদ করেন,  ‘তোমাদের মধ্যে যেকোনো অন্যায়কারীকে দমনে সে যেন হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে, যদি তা করতে না পারে তবে সে যেন মুখ দিয়ে প্রতিহত করে।যদি সে মুখ দিয়েও না পারে তাহলে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা পোষণ করে; আর এটাই দুর্বল ঈমানের পরিচয়।’ (বুখারি)

                                                লেখক :
                                               সভাপতি

                                    সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলন 

Comments (০)
Add Comment