চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে যুবলীগের সাবেক নেতা ফজলে এলাহী মিশনের বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।সম্প্রতি রাতে সন্দ্বীপ পৌরসভা ছাত্রদলের নেতা আবু সায়ীদ খান তাঁর ওপর হামলার কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।এরপরেই এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।ফজলে এলাহীকে গতকাল রাতে পৌরসভায় তাঁর নানার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ।
ফজলে এলাহী মিশন সন্দ্বীপ পৌরসভা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক।কয়েক বছর ধরে তিনি এলাকায় থাকেন না বলে জানান স্থানীয় লোকজন। আবু সায়ীদ খান সন্দ্বীপ পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।ঘটনার বিষয়ে জানতে ফজলে এলাহী মিশনের পরিবারের লোকজন নিউইয়র্কে অবস্থান করায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে ফজলে এলাহী মিশনের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তার স্ত্রী শারমিন আমিন স্মৃতি বলেন,আমার স্বামী জাকাত পৌঁছে দিতে সন্দ্বীপ গিয়েছিল।কারণ প্রতি রমজানে গরীব,দুঃখী,অসহায় মানুষ মাঝে জাকাত দিয়ে থাকি।
তিনি আরো বলেন,সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছে ফজলে এলাহি মিশন।যেই লোক ফেসবুক স্টাটাস দিয়েছে এবং বিএনপি নেতাদের সামনে ভিডিও বক্তব্য দিয়েছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।মিশন সেইদিন মোটর সাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তেল নিতে সেখানে দাঁড়িয়েছিল কিন্তু আবু সায়ীদ খান সম্পূর্ণ মিথ্যা পোস্ট দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছে।
এরপর তো আপনারই দেখলেন ফজলে এলাহি মিশনের নতুন বাড়ি ও পুরাতন বাড়ি দুটোই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।এরপর লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে।আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে।আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি।আইনি মোকাবিলা করবো,পাশাপাশি বিএনপি নেতাদের কাছে আমার দাবি,আপনারা সত্য মিথ্যা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
ফজলে এলাহি মিশন আত্মসমর্পণ করেছে কি না এবিষয়ে তিনি বলেন,সে আত্মসমর্পণ করার কথা হয়েছে কিন্তু পুলিশ এর আগেই তাকে আটক করেছে।
ছাত্রদলের নেতা আবু সায়ীদ খান বলেন,গতকাল রাত আটটার দিকে সন্দ্বীপ পৌরসভার শাহজাহান মিয়ারগো তেমাথায় অবস্থিত তাঁর ফার্মেসিতে এসে হামলা চালান ফজলে এলাহী মিশন।দোকানে ঢুকে তাঁকে মারধর শুরু করেন ফজলে এলাহী মিশনসহ কয়েকজন।একপর্যায়ে গুলিও ছোড়েন ফজলে এলাহী মিশন।এরপর রাত নয়টার দিকে প্রশাসন ও দলীয় সহায়তা চেয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন আবু সায়ীদ।
পোস্ট দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর ফজলে এলাহী মিশনের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।এ বিষয়ে আবু সায়ীদ খান দাবি করেন,আমাদের দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনের সহায়তায় ফজলে এলাহী নিজের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন।
সন্দ্বীপ পৌরসভায় ফজলে এলাহী মিশনের বাড়ির আশপাশের বাসিন্দারা জানান,রাত ১০টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল এসে ফজলে এলাহী মিশনের দুটি ঘরে আগুন দেয়।একটি পুরোনো টিনের ঘর অন্যটি নতুন দালান।দুটি ঘরই আগুনে পুড়ে গেছে।
এ সময় ফজলে এলাহী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে অবস্থান করছিলেন না।রাত ৩টা পর্যন্ত বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেছেন প্রতিবেশীরা।ফজলে এলাহী মিশন ছাড়া তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করেন বলে জানা যায়।
সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর আগুন লাগানোর বিষয়টি নাকচ করে বলেন,ফজলে এলাহী মিশনের কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সেখানকার মানুষ অতিষ্ঠ।অতিষ্ঠ এলাকাবাসীই তাঁর বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় আমাদের দলের কারও সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)এ কে এম সফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন,গতকাল রাতে ফজলে এলাহী মিশনকে পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত তাঁর নানাবাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।ফজলে এলাহী মিশনের ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি থানায়।