০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়নি ৩ মাসেও।

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10
Print

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দূর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের পুরানো হলেও নতুনভাবে যোগ হয়েছে নিয়োগ বানিজ্য।গেলো বছরে PHD(Partners In Health And Development)কর্তৃক বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক ও ইউনিসেফ এর কারিগরি সহযোগিতায় ISO প্রকল্পের অধীনে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৬ টি পদে ১৫ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।নিয়োগ শর্তে সন্দ্বীপের প্রকৃত স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও ১৫ জনের ৯ জনই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অন্য উপজেলা ও অন্য জেলা থেকে,বাকী ৬ জন সন্দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা।

এই নিয়োগের জন্য ২৭ জন আবেদন করলেও সবগুলো আবেদন হয়েছে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাকরিরত স্টাফদের আত্মীয় স্বজন।তার মধ্যে বাঁশখালী উপজেলা,কিশোরগঞ্জের ২জন,বর্তমানে স্বাস্থ্য সহকারী কামরুল হাসানের দুই স্ত্রীসহ কামরুল হাসানের আবেদনও রয়েছে।অথচ এই কামরুল হাসান ও তার এক স্ত্রী বর্তমানে একজন পরিবার পরিকল্পনাতে আছেন আর কামরুল হাসান নিজেও স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে কর্মরত আছেন।এছাড়া বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মানস বিশ্বাসের গাড়ি চালক রুস্তমের স্ত্রী-সন্তানও কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো।

নিয়োগ দূর্নীতির বিষয়ে জানতে পেরে গ্লোবাল টেলিভিশনের সন্দ্বীপ উপজেলা প্রতিনিধি রিয়াদুল মামুন সোহাগ তার ব্যাক্তিগত ফেসবুকে সকল নিয়োগপত্রসহ পোস্ট দেয়।নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায় এই খবর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস থেকে বিভাগীয় তদন্ত দেওয়া,যা এখনো চলমান রয়েছে।৩/৪ তারিখ বসলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস।

এরমধ্যেই অবৈধভাবে নিয়োগকৃতদের মধ্যে ভিন্ন এলাকার ৪ জন পদত্যাগ করেছেন।কিন্তু আজো বিভাগীয় তদন্ত শেষ হয়নি।

নিয়োগ দূর্নীতি বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন,এই নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানেন না,এই নিয়োগ পিএইচডি প্রকল্পের আওতায় হয়েছে।যদিও তার সুপারিশে এই ১৫ জনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,নিয়োগের বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মানস বিশ্বাসের সাথে কথা বলেন।উল্টো তিনি তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পরামর্শ দেন।

নিয়োগ দূর্নীতি নিয়ে দুইমাস ধরে বিভাগীয় তদন্ত চলমান থাকলেও আজও কোন সিদ্ধান্ত দেননি চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস থেকে,শুধু একটার পর একটা তারিখ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাঁশখালী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সন্দ্বীপবাসী কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।তারা চাই সুন্দর সমাধান।আদৌও যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিচার হবে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়নি ৩ মাসেও।

Update Time : ০৩:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Print

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দূর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের পুরানো হলেও নতুনভাবে যোগ হয়েছে নিয়োগ বানিজ্য।গেলো বছরে PHD(Partners In Health And Development)কর্তৃক বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক ও ইউনিসেফ এর কারিগরি সহযোগিতায় ISO প্রকল্পের অধীনে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৬ টি পদে ১৫ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।নিয়োগ শর্তে সন্দ্বীপের প্রকৃত স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও ১৫ জনের ৯ জনই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অন্য উপজেলা ও অন্য জেলা থেকে,বাকী ৬ জন সন্দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা।

এই নিয়োগের জন্য ২৭ জন আবেদন করলেও সবগুলো আবেদন হয়েছে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাকরিরত স্টাফদের আত্মীয় স্বজন।তার মধ্যে বাঁশখালী উপজেলা,কিশোরগঞ্জের ২জন,বর্তমানে স্বাস্থ্য সহকারী কামরুল হাসানের দুই স্ত্রীসহ কামরুল হাসানের আবেদনও রয়েছে।অথচ এই কামরুল হাসান ও তার এক স্ত্রী বর্তমানে একজন পরিবার পরিকল্পনাতে আছেন আর কামরুল হাসান নিজেও স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে কর্মরত আছেন।এছাড়া বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মানস বিশ্বাসের গাড়ি চালক রুস্তমের স্ত্রী-সন্তানও কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো।

নিয়োগ দূর্নীতির বিষয়ে জানতে পেরে গ্লোবাল টেলিভিশনের সন্দ্বীপ উপজেলা প্রতিনিধি রিয়াদুল মামুন সোহাগ তার ব্যাক্তিগত ফেসবুকে সকল নিয়োগপত্রসহ পোস্ট দেয়।নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায় এই খবর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস থেকে বিভাগীয় তদন্ত দেওয়া,যা এখনো চলমান রয়েছে।৩/৪ তারিখ বসলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস।

এরমধ্যেই অবৈধভাবে নিয়োগকৃতদের মধ্যে ভিন্ন এলাকার ৪ জন পদত্যাগ করেছেন।কিন্তু আজো বিভাগীয় তদন্ত শেষ হয়নি।

নিয়োগ দূর্নীতি বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন,এই নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানেন না,এই নিয়োগ পিএইচডি প্রকল্পের আওতায় হয়েছে।যদিও তার সুপারিশে এই ১৫ জনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,নিয়োগের বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মানস বিশ্বাসের সাথে কথা বলেন।উল্টো তিনি তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পরামর্শ দেন।

নিয়োগ দূর্নীতি নিয়ে দুইমাস ধরে বিভাগীয় তদন্ত চলমান থাকলেও আজও কোন সিদ্ধান্ত দেননি চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস থেকে,শুধু একটার পর একটা তারিখ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাঁশখালী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সন্দ্বীপবাসী কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।তারা চাই সুন্দর সমাধান।আদৌও যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিচার হবে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ করছে।