সন্দ্বীপের তন্নি রহমানের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।
- Update Time : ০২:১৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 14

তন্নি রহমান সন্দ্বীপের একজন সাধারণ নারী। তার বাড়ি সন্দ্বীপ হারামিয়া ২নং ওয়ার্ডের বেলুবাড়ির আনোয়ার ও অজিয়া বেগমের মেয়ে। বর্তমানে স্বামীর সাথে হালিশহর চুনা প্যাকটোরি মোড় সংলগ্ন মাইজপারা এলাকায় বসবাস করেন। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা আমার জীবনের পথটা খুব সহজ ছিলনা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল নিজের একটা পরিচয় তৈরি করার, নিজের চেষ্টায় কিছু করার। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা, সংসার, দায়িত্ব, আর নানা বাধা অনেক সময় সেই স্বপ্নকে কঠিন করে তুলেছিল।
তিনি দেশীয় ও গ্রামীণ পণ্য নিয়ে কাজ করেন।যেমন খাঁটি মধু, কাঁচা আম, লিচু, মহিষের দই, হরুলি, ইলিশ মাছ, বড় চিংড়ি, আমের আচার, পিঠা, জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে মানুষের কাছে ভালো মানের জিনিস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি খুব ছোট ঘরের মেয়ে। জীবনে অনেক সুখ যেমন দেখেছি,তেমনি দুঃখও কম দেখিনি। অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে যেখানে মনে হয়েছে আর হয়তো সামনে এগোনো সম্ভব না। আর্থিক সমস্যা, পারিবারিক দায়িত্ব, মানসিক চাপ—সবকিছু একসাথে সামলানো সত্যিই কঠিন ছিল। চারপাশের অনেক মানুষের কথা, অবহেলা, এবং পরিস্থিতির চাপে অনেকবার ভেঙে পড়েছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, মানুষের জীবনে কষ্ট না থাকলে সফলতার মূল্য বোঝা যায় না। তাই যত বাধাই এসেছে, থেমে না গিয়ে আবার নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করেছি। নিজের মনকে শক্ত করেছি এবং ভেবেছি—আমাকেও কিছু করতে হবে, নিজের পরিচয়ে বাঁচতে হবে।
এই ভাবনা থেকেই অনলাইনে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করি। শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমদিকে খুব বেশি সাড়া পাইনি, অনেক কষ্ট করে কাস্টমার তৈরি করতে হয়েছে। কখনো লাভ হয়েছে, কখনো ক্ষতিও হয়েছে। তবুও ধৈর্য হারাইনি।
আমি দেশীয় ও গ্রামীণ পণ্য নিয়ে কাজ করছি। খাঁটি মধু, কাঁচা আম, লিচু, মহিষের দই, হরুলি, ইলিশ মাছ, বড় চিংড়ি, আমের আচার, পিঠা, জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে মানুষের কাছে ভালো মানের জিনিস পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি।
আমার কাছে ব্যবসা শুধু আয় করার মাধ্যম নয়, এটি আমার স্বপ্ন, আমার আত্মপরিচয়, এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি পথ। একজন নারী হিসেবে সংসার সামলে ব্যবসা করা সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়।
আজ যখন গত বছরের কাস্টমাররা আবারও আমার কাছে অর্ডার করতে আসেন, ভালোবাসা আর বিশ্বাস নিয়ে পাশে থাকেন—তখন মনে হয় আমার কষ্টগুলো বৃথা যায়নি। মানুষের এই ভালোবাসাই আমাকে আরও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।
জীবনে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সফলতা-ব্যর্থতা সবই আছে। তবে আমি শিখেছি, কষ্টকে ভয় পেলে সামনে এগোনো যায় না। ধৈর্য, পরিশ্রম এবং আল্লাহর উপর ভরসা থাকলে একদিন না একদিন ভালো সময় আসেই।
আমার স্বপ্ন শুধু নিজের জন্য নয়। আমি চাই আমার মতো আরও নারীরা সাহস পাক, নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে আসুক, এবং প্রমাণ করুক—ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন নারীও অনেক কিছু করতে পারে। দোয়া করবেন, যেন সততা ও পরিশ্রম দিয়ে আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারি।













