০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহসিফ হত্যার তদন্তে নতুন মোড়, কে সেই রহস্যময় তরুণী?

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 20
Print

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর তদন্তে নতুন করে সামনে এসেছে এক রহস্যময় তরুণীর বিষয়টি। ঘটনার রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তাঁকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই তরুণীকে খুঁজে পাওয়া গেলে তাহসিফের মৃত্যুর আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ ও ওই তরুণী। তাঁরা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল পার্ক করে তাঁরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি ফুটেজে তাহসিফ ও ওই তরুণীকে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন। সেখানে তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন।

পরে তিনজন মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পরে ওই তরুণীকে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। তবে ওই তরুণী সেখানে গিয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তকারীরা ওই তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ২৫ বছর বলে ধারণা করছেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরা অবস্থায় দেখা গেছে। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। পুলিশ তাঁর ছবি সংগ্রহ করেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে নৌপুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপের ডাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসার খবর পায় পুলিশ। পরে নৌপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহালের সময় ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, সেখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে কেন তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, এরপর কী ঘটেছিল কিংবা তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়া। শনিবার সংগঠনটির নেতারা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, ওই তরুণীকে শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে তাঁর পরিচয়, তাহসিফের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

তাহসিফ হত্যার তদন্তে নতুন মোড়, কে সেই রহস্যময় তরুণী?

Update Time : ০৮:৩৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Print

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর তদন্তে নতুন করে সামনে এসেছে এক রহস্যময় তরুণীর বিষয়টি। ঘটনার রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তাঁকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই তরুণীকে খুঁজে পাওয়া গেলে তাহসিফের মৃত্যুর আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ ও ওই তরুণী। তাঁরা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল পার্ক করে তাঁরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি ফুটেজে তাহসিফ ও ওই তরুণীকে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন। সেখানে তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন।

পরে তিনজন মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পরে ওই তরুণীকে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। তবে ওই তরুণী সেখানে গিয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তকারীরা ওই তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ২৫ বছর বলে ধারণা করছেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরা অবস্থায় দেখা গেছে। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। পুলিশ তাঁর ছবি সংগ্রহ করেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে নৌপুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপের ডাকে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসার খবর পায় পুলিশ। পরে নৌপুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহালের সময় ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, সেখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে কেন তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, এরপর কী ঘটেছিল কিংবা তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়া। শনিবার সংগঠনটির নেতারা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে তাহসিফের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, ওই তরুণীকে শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে তাঁর পরিচয়, তাহসিফের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।