১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 8
Print

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ৩১-এ অংশ নিতে চলতি মাসেই তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে’ যোগ দেবেন তিনি। সেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলবে বাংলাদেশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার সংক্ষিপ্ত সফরে যাবেন এবং সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা কপ৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোকে দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান খুবই কম, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও এর বিরূপ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে দেশটিকে। এ কারণে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির আওতায় বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পালনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোও সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

শামা ওবায়েদের ভাষ্য, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়াসহ বৃহত্তর এশিয়ার দেশগুলোর মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরি করছে, তা-ও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

কপ৩১ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বৈশ্বিক রূপান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

এবারের সম্মেলনে তুরস্ক আয়োজক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

চলতি মাসেই তুরস্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৯:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Print

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ৩১-এ অংশ নিতে চলতি মাসেই তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে’ যোগ দেবেন তিনি। সেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলবে বাংলাদেশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার সংক্ষিপ্ত সফরে যাবেন এবং সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা কপ৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোকে দায়িত্ব পালনে চাপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরবে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান খুবই কম, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও এর বিরূপ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে দেশটিকে। এ কারণে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির আওতায় বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পালনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোও সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

শামা ওবায়েদের ভাষ্য, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়াসহ বৃহত্তর এশিয়ার দেশগুলোর মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরি করছে, তা-ও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

কপ৩১ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বৈশ্বিক রূপান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

এবারের সম্মেলনে তুরস্ক আয়োজক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া।