চাঁদাবাজির প্রতিবাদে স্পিড বোট বন্ধ থাকায় চিকিৎসার অভাবে ঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু
- Update Time : ০৬:৫৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 13

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল। এ জন্য চিকিৎসা নিতে সময়মতো চট্টগ্রামে যেতে পারেননি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন(৭০)।বুধবার(১৯ আগস্ট)সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গুপ্তছড়া ঘাটে তার মৃত্যু হয়।
মৃত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন সন্দ্বীপের গাছুয়া ইউনিয়নের কাসেম মার্কেটসংলগ্ন রহমতেরগো বাড়ির বাসিন্দা।তার পরিবারের সদস্যরা জানান,লিভারজনিত অসুস্থতায় মঙ্গলবার রাতে তাকে স্থানীয় গাছুয়া স্বাস্থ্য প্রকল্পে ভর্তি করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
এদিকে সাত দিন পর বুধবার সকালে আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হলেও গুপ্তছড়া থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় কোনো নৌযানের ব্যবস্থা ছিল না।চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও ঘাটকর্মীদের নিরাপত্তার দাবিতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কুমিরা-গুপ্তছড়া ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ।ফলে জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ঘাটেই তার মৃত্যু হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের ভাতিজা রেজাউল করিম বলেন,সকাল ৯টার দিকে চাচাকে নিয়ে গুপ্তছড়া ঘাটে আসি।জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য স্পিডবোটের খোঁজ করলে তারা বোট চলাচল বন্ধ থাকার কথা জানান।তখন ভাটা থাকায় ফেরি,স্টিমার কিংবা পণ্যবাহী নৌযানেও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। নৌযানের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সাড়ে ১১টার দিকে চাচার মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট পরিচালনাকারী বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত আদিল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন স্পিডবোট বন্ধ রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,গত দুই দিন ধরে গুপ্তছড়া ঘাটের কাউন্টারে এসে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ঘাট পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)উপপরিচালক নয়ন শীল বলেন,এটি তাদের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব।আমি বোট চালু না করলে লাইসেন্স বাতিল করে দেব বলে জানিয়েছি।
এদিকে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং না থাকায় আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পরও জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়।একই পরিস্থিতি ছিল ফেরি সার্ভিসেও।জোয়ারের সময় বিকেল ৫টায় ফেরি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সন্দ্বীপ থানার ওসি সুজন হালদার বলেন,লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন,চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবে কাম্য নয়।বোট চলাচলের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি।আশা করি দ্রুত চালু হবে।












