০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই পাল্টা জবাবের নির্দেশ খামেনির

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 13
Print

সামরিক কমান্ডারদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের নির্দেশ, মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদকে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা চালালে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) খামেনির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিবৃতিটি প্রকাশের সময় তাঁর সঙ্গে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছিল। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে খামেনি বলেন, শত্রুরা আবারও সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালালে কখন এবং কীভাবে সেই সংঘাতের অবসান ঘটবে, তা নির্ধারণ করবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানি জনগণ।

সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো মাত্রা বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন জবাব নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদকে ইরানের সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তা হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন খামেনি।

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে খামেনির এই বৈঠকের খবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এদিকে তেহরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে ৪ নভেম্বরের কথা উঠে এসেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন তথ্য নিশ্চিত নয়।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই হুঁশিয়ারিকে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আগে তেহরানের কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই পাল্টা জবাবের নির্দেশ খামেনির

Update Time : ১২:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Print

সামরিক কমান্ডারদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের নির্দেশ, মার্কিন ও ইসরায়েলি সম্পদকে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা চালালে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পাল্টা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সামরিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) খামেনির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিবৃতিটি প্রকাশের সময় তাঁর সঙ্গে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছিল। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে খামেনি বলেন, শত্রুরা আবারও সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালালে কখন এবং কীভাবে সেই সংঘাতের অবসান ঘটবে, তা নির্ধারণ করবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানি জনগণ।

সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো মাত্রা বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন জবাব নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদকে ইরানের সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তা হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন খামেনি।

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে খামেনির এই বৈঠকের খবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এদিকে তেহরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে ৪ নভেম্বরের কথা উঠে এসেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন তথ্য নিশ্চিত নয়।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই হুঁশিয়ারিকে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আগে তেহরানের কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা