০১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, ৩ নভেম্বর আঘাত হানতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4
Print

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ২ নভেম্বর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা; বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। স্থলভাগে আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ১ নভেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় এবং ২ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমডির বুলেটিন অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর ভোরের দিকে ঝড়টি দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এরপর নেল্লোর থেকে নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে স্থলভাগ অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’ প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এ নাম দেওয়া হবে। প্রাথমিক পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানার কথা বলা হলেও এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, রায়ালসীমা, ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আইএমডির পূর্বাভাসে ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। রায়ালসীমা অঞ্চলেও ২ ও ৩ নভেম্বর ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ নভেম্বর ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের আশঙ্কা রয়েছে। ২ নভেম্বর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে পারে। স্থলভাগে আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঝড়ের পরপরই নতুন আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জোরদার করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।

তথ্যসূত্র: আইএমডি), টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস

Please Share This Post in Your Social Media

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, ৩ নভেম্বর আঘাত হানতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে

Update Time : ১২:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Print

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ২ নভেম্বর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা; বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। স্থলভাগে আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ১ নভেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় এবং ২ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমডির বুলেটিন অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর ভোরের দিকে ঝড়টি দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এরপর নেল্লোর থেকে নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে স্থলভাগ অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’ প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এ নাম দেওয়া হবে। প্রাথমিক পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানার কথা বলা হলেও এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, রায়ালসীমা, ওড়িশা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আইএমডির পূর্বাভাসে ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। রায়ালসীমা অঞ্চলেও ২ ও ৩ নভেম্বর ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ নভেম্বর ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের আশঙ্কা রয়েছে। ২ নভেম্বর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে পারে। স্থলভাগে আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ঝড়ের পরপরই নতুন আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জোরদার করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।

তথ্যসূত্র: আইএমডি), টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস