০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট বন্ধ,ভোগান্তিতে যাত্রীরা।

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 8
Print

রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে অনুকূল আবহাওয়ায় ঘাটে বাড়ছিল যাত্রীদের ভিড়।কিন্তু বেলা বাড়লেও যাত্রী পারাপারের সুযোগ ছিল না।আজ মঙ্গলবার পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রধান নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।এতে দুর্ভোগে পড়েন দুই পারের হাজারো যাত্রী।

এসময় যাত্রীরা জানান,ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও স্পিডবোট বন্ধের কোনো কারণ জানানো হয়নি।পরে জোয়ার বাড়লে সার্ভিস বোট(কাঠের তৈরি ট্রলার)চলাচল শুরু হয়।তখন অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে সার্ভিস বোটে যাত্রা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গতকাল সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।সম্প্রতি এই রুটে স্পিডবোটে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২৬০ টাকা।এর পর থেকেই মূলত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিষয়টি স্বীকার করেন স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন বলেন,নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালিয়ে আমাদের পোষাবে না।তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্পিডবোট বন্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।তাঁদের অভিযোগ,পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ রাখার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মালিকপক্ষ প্রায়ই নিজেদের সিদ্ধান্তে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে।সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময়ও কয়েক দফা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল।এর স্থায়ী সমাধান দরকার।

আজ ঘাটে আসা যাত্রী রফিকুল ইসলাম(৫৫)বলেন,জরুরি কাজে পারাপারের জন্য ঘাটে এসে দেখি স্পিডবোট চলছে না। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে।

আরেক যাত্রী মাইনুদ্দিন ফাহাদ বলেন,স্পিডবোট কেন বন্ধ জানতে চাইলে ঘাটের লোকজন কিছু বলেন না। শুধু বলেন,সার্ভিস বোটে যেতে।অথচ স্পিডবোটের তুলনায় সার্ভিস বোটে সময় লাগে চার গুণ বেশি। আবার ১৩০ টাকার সার্ভিস বোট ভাড়াও বাড়িয়ে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সার্ভিস বোটের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে জগলুল হোসেন বলেন,তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।তবে কীভাবে ও কার সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে,সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে ভাড়া নির্ধারণ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা কুমিরা ঘাটে মতবিনিময় সভা করেন।সভায় ৩৮০ টাকা থেকে ভাড়া কমিয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।সম্প্রতি তেলের দাম বাড়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা একটি সভা করে ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেন।তবে তা ছিল সাময়িক সময়ের জন্য।

গতকাল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন ও প্রশাসন (টিএ)শাখা দেশের ৩৫টি শান্ত ও ৯টি অশান্ত নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।এতে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।তবে এই ভাড়াকে অযৌক্তিক দাবি করেছেন নৌযান মালিকেরা।

জগলুল হোসেন বলেন,নোয়াখালী-হাতিয়া নৌরুটের ভাড়া ৩২৫ টাকা হলেও একই দূরত্বের কুমিরা-গুপ্তছড়ার ভাড়া কীভাবে ২৬০ টাকা হয়? পুনর্নির্ধারিত ভাড়ায় আমাদের লস হবে।আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।সমাধান না হলে লস দিয়ে তো আর স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার)নয়ন শীল বলেন,সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি।দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন,সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই স্পিডবোট চালাতে হবে।এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌরুটে স্পিডবোট বন্ধ,ভোগান্তিতে যাত্রীরা।

Update Time : ০৭:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Print

রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে অনুকূল আবহাওয়ায় ঘাটে বাড়ছিল যাত্রীদের ভিড়।কিন্তু বেলা বাড়লেও যাত্রী পারাপারের সুযোগ ছিল না।আজ মঙ্গলবার পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রধান নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।এতে দুর্ভোগে পড়েন দুই পারের হাজারো যাত্রী।

এসময় যাত্রীরা জানান,ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও স্পিডবোট বন্ধের কোনো কারণ জানানো হয়নি।পরে জোয়ার বাড়লে সার্ভিস বোট(কাঠের তৈরি ট্রলার)চলাচল শুরু হয়।তখন অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে সার্ভিস বোটে যাত্রা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গতকাল সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।সম্প্রতি এই রুটে স্পিডবোটে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২৬০ টাকা।এর পর থেকেই মূলত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিষয়টি স্বীকার করেন স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন বলেন,নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালিয়ে আমাদের পোষাবে না।তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্পিডবোট বন্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।তাঁদের অভিযোগ,পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ রাখার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মালিকপক্ষ প্রায়ই নিজেদের সিদ্ধান্তে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে।সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময়ও কয়েক দফা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল।এর স্থায়ী সমাধান দরকার।

আজ ঘাটে আসা যাত্রী রফিকুল ইসলাম(৫৫)বলেন,জরুরি কাজে পারাপারের জন্য ঘাটে এসে দেখি স্পিডবোট চলছে না। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে।

আরেক যাত্রী মাইনুদ্দিন ফাহাদ বলেন,স্পিডবোট কেন বন্ধ জানতে চাইলে ঘাটের লোকজন কিছু বলেন না। শুধু বলেন,সার্ভিস বোটে যেতে।অথচ স্পিডবোটের তুলনায় সার্ভিস বোটে সময় লাগে চার গুণ বেশি। আবার ১৩০ টাকার সার্ভিস বোট ভাড়াও বাড়িয়ে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সার্ভিস বোটের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে জগলুল হোসেন বলেন,তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।তবে কীভাবে ও কার সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে,সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে ভাড়া নির্ধারণ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা কুমিরা ঘাটে মতবিনিময় সভা করেন।সভায় ৩৮০ টাকা থেকে ভাড়া কমিয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।সম্প্রতি তেলের দাম বাড়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা একটি সভা করে ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেন।তবে তা ছিল সাময়িক সময়ের জন্য।

গতকাল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন ও প্রশাসন (টিএ)শাখা দেশের ৩৫টি শান্ত ও ৯টি অশান্ত নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।এতে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।তবে এই ভাড়াকে অযৌক্তিক দাবি করেছেন নৌযান মালিকেরা।

জগলুল হোসেন বলেন,নোয়াখালী-হাতিয়া নৌরুটের ভাড়া ৩২৫ টাকা হলেও একই দূরত্বের কুমিরা-গুপ্তছড়ার ভাড়া কীভাবে ২৬০ টাকা হয়? পুনর্নির্ধারিত ভাড়ায় আমাদের লস হবে।আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।সমাধান না হলে লস দিয়ে তো আর স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার)নয়ন শীল বলেন,সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি।দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন,সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই স্পিডবোট চালাতে হবে।এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।