১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি কারখানায় আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে, নওগাঁর ৫ জন

Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4
Print

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। বাকি দুজন নাটোর জেলার।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবরে স্বজনদের মধ্যে একদিকে যেমন শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখার অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারগুলোতে।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। এর আগে গত ২৭ আগস্ট নিহতদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বিমানে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত নওগাঁর পাঁচজন হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন, আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী।

এছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।

নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার নিহত শাহিনের স্ত্রী পারভীন স্বামীর মরদেহ দেশে ফেরার খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশত থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’

এদিকে মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে। মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।

দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর স্বজন হারানোর বেদনা পেরিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি। তবে তাদের এই ফিরে আসা আনন্দের নয়, বরং পাঁচটি নওগাঁর পরিবারসহ সাতটি পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

সৌদি কারখানায় আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে, নওগাঁর ৫ জন

Update Time : ১০:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Print

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। বাকি দুজন নাটোর জেলার।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবরে স্বজনদের মধ্যে একদিকে যেমন শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখার অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারগুলোতে।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। এর আগে গত ২৭ আগস্ট নিহতদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বিমানে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত নওগাঁর পাঁচজন হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন, আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী।

এছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।

নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার নিহত শাহিনের স্ত্রী পারভীন স্বামীর মরদেহ দেশে ফেরার খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশত থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’

এদিকে মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে। মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।

দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর স্বজন হারানোর বেদনা পেরিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি। তবে তাদের এই ফিরে আসা আনন্দের নয়, বরং পাঁচটি নওগাঁর পরিবারসহ সাতটি পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতার স্মৃতি হয়ে থাকবে।