ওমান থেকে মায়ের কোলে ফিরেছে চার সহোদরের নিথর দেহ,চোখের জলে শেষ বিদায় জানালেন স্বজনরা।
- Update Time : ০৪:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 6

ওমান থেকে মায়ের কোলে ফিরেছে চার সহোদরের নিথর দেহ, চোখের জলে শেষ বিদায় জানালেন স্বজনরা।২০ মে বুধবার ভোর আনুমানিক ছয়টা। এলাকার এক পরিবারের চার সহোদরের মৃত্যুের ঘটনায় শোকে আচ্ছন্ন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামেররা বন্দারাজারপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের বাড়ি তখন লোকে লোকারণ্য।
উপস্থিত মানুষের চোখগুলো অশ্রুসিক্ত। শত শত মানুষের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য নেই, আছে কেবল দীর্ঘশ্বাস আর নির্বাক চাহনি। তারা অপেক্ষায় আছেন প্রবাস থেকে গ্রামের বাড়ির পানে ফিরে আসা চার সহোদর ওমান প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম,শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলামকে বরণের।
ভোর ছয়টার দিকে চার চারটি এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দে মুহূর্তেই বদলে গেল পরিবেশ। এতক্ষণ পিনপতন নীরবতায় আচ্ছন্ন লালানগর গ্রামে কান্নার রোলে পুরো পরিবেশটাই ভারী হয়ে উঠেছে। এতদিন যেই গর্বধারিনী মা জানতেন, তার সন্তানেরা অসুস্থ। প্রবাসে চিকিৎসাধীন আছেন সেই মাও জেনে গেছেন,তার আদরের পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজন আর বেঁচে নেই। জায়নামাজে বসে দুহাত তুলে বুকের চাপা কষ্টের মাঝেও সন্তানদের শেষ বিদায়ে মা যেন মনভরে দোয়া করলেন সৃষ্টিকর্তার কাছে, তার আদরের সন্তানেরা যেন বেহেশত নসীব হয়।
এদিকে গাড়ি থেকে একে একে নামানো হলো কফিনে মোড়ানো চার চারটি নিথর দেহ। পাশাপাশি খাটিয়ায় শুয়ে আছেন মায়ের বুকের মানিকধনগুলো।
সময় যত গড়াচ্ছে ততই চার সহোদরের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে মানুষের ভীড় বাড়ছে।
লালানগর গ্রামের আবদুল মজিদের বাড়ির উঠানে
শেষবারের মতোন চারভাইয়ের নিথর দেহ স্বজনদের দেখার জন্য সারিবদ্ধ খাটিয়া রাখা। এমন মর্মান্তিক ঘটনা এরপূর্বে খুব একটা দেখেনি উত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মানুষ।
অপেক্ষার পালা শেষে এবার অন্তিম যাত্রার পালা।
চার ভাইয়ের লাশবাহী খাটিয়া কাঁধে নিয়ে স্বজনরা
ছুটলেন হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। বেলা ১১টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ তখন হাজার হাজার মুসল্লীতে পরিপূর্ণ। চার ভাইয়ের জানাজা পড়ালেন ছোট ভাই মোহাম্মদ এনাম। জানাজা শেষে মোনাজাতে ভাইদের জন্য দোয়া চাইলেন বেঁচে থাকা ছোট ভাই তখন পুরো জানাজা প্রাঙ্গনে আবারো দৃশ্যমান হলো হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জানাজা শেষে বান্দারাজার পাড়া জামে মসজিদের পাশে কবরস্থানে প্রস্তুত করে রাখা পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন সম্পন্ন হয় চার সহোদরের।
স্থানীয়রা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সুলতানাত অব ওমানের আল মুলাদ্দা প্রদেশে আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনা একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চার সহোদরের মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চারজনের লাশ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে
বিমানবন্দরে নিজ নির্বাচনী এলাকার চার সহোদরে লাশ গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া কসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
গত ১৩ মে বুধবার রাতে ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় রাতে গাড়ি পার্ক করে এসি চালু করে গাড়ীতেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন চার সহোদর। পরে গাড়ীর ভেতর থাকা চার সহোদর তাদের পারভেজ নামের এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজে গুরুতর অসুস্থতার কথা জানান এবং গাড়ির ভেতর থেকে বের হতে পারছিলেন না বলে জানান। গাড়ির এসি চালু রেখে ঘুমানোর ফলে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস, চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার রাতে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং বুধবার সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওমানে রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন বিয়োগান্তক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ঘটনাটি মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়।












