জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নজীবুর রহমানের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল
- Update Time : ০৮:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 7

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড ল’র আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহা. নজীবুর রহমানের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শোকসভায় বক্তারা মরহুমের কর্মজীবন, ব্যক্তিগত গুণাবলি ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ড. নজীবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত নিরিবিলি স্বভাবের মানুষ। তিনি নিজের কাজকে ধর্মীয় দায়িত্বের মতো গুরুত্ব দিয়ে পালন করতেন। তাঁর জীবন থেকে দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে হবে। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। ভালো কাজের প্রতিদান পৃথিবীতেও পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, যে ধরনের সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। একসময় পশ্চিমা দেশগুলো মুসলমানদের কাছ থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিখেছে। অথচ বর্তমানে তারা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে জ্ঞানচর্চা, কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, যিনি একসময় সবার পাশে ছিলেন, আজ তিনি আর তাঁদের মাঝে নেই। ড. নজীবুর রহমান ছিলেন একজন সহজ-সরল মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একজন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন। একই সঙ্গে সবাইকে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, ড. নজীবুর রহমান ছিলেন একজন সজ্জন ব্যক্তি। আমরা প্রায়ই নিজেদের একটি পরিবার হিসেবে উল্লেখ করি। তবে বাস্তবে সেই পারিবারিক ঐক্য কতটা বজায় রাখতে পারছি, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে বিভাজন সৃষ্টি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে। বেঁচে থাকতে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার চর্চা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন ড. আশেক কবির চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম, আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল কবীর এবং মরহুমের বড় ছেলে ও এনসিপি নেতা নাকিবুর রহমান।
বক্তারা ড. মুহা. নজীবুর রহমানের কর্মজীবন, ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
শোকসভা ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমাম হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াহ্ইয়া। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ড. মুহা. নজীবুর রহমান গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মেট্রোরেলে স্ট্রোক করেন। পরে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তথ্যসূত্র: জনসংযোগ দপ্তর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।






















