০৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেরি কপোতাক্ষের ধাক্কায় স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে গেলেন যাত্রীরা।

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19
Print

ঘাটে ভিড়ছিল ফেরি।তখনই পন্টুনের র‍্যাম্প (ওঠানামার ধাতব পথ)খুলে গিয়ে ধপাস করে পড়ে পানির ওপর। যেখানে র‍্যাম্পটি পড়ে এর পাশেই ২৫ জন যাত্রী নিয়ে অবস্থান করছিল স্পিডবোটটি।সেটি স্রোতের তোড়ে একটু কাত হয়ে উঠতেই আতঙ্কে পানিতে ঝাঁপ দেন বেশ কজন যাত্রী।

 

আজ সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।সাঁতরে তীরে ওঠেন ওই যাত্রীরা।তবে র‍্যাম্প খুলে পড়ার কারণে নামতে না পেরে প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরিতে আটকে ছিল ৯টি মোটরসাইকেলসহ ২৩টি যানবাহন।

 

যাত্রীদের সাঁতরে তীরে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।এতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে পানি থেকে উঠে আসতে দেখা যায়।ঘাটে থাকা যাত্রীদের একজন শরীফ বলেন,ঘটনাটি ভয়াবহ ছিল।র‍্যাম্প খুলে পানিতে পড়ার পর স্পিডবোটটি কাত হয়ে যাচ্ছিল।আতঙ্কে যাত্রীরা পানিতে ঝাঁপ দেন।

 

ঘাটে নিয়োজিত শ্রমিক ফিরোজ আলম(৩২)বলেন, ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সময় তিনি ঘাটে ছিলেন।র‍্যাম্পটি আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল।ফেরি ভেড়ার সময় হঠাৎ সেটি খুলে পড়ে।এতে তিন ঘণ্টা ফেরিতে থাকা যানবাহন আটকে ছিল।

 

ফেরির মাস্টার আমীর হোসেন বলেন,গত এক সপ্তাহ ধরে পন্টুনের সঙ্গে র‍্যাম্পের সংযোগটি ভেঙে পড়ে আছে।আমরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বারবার জানিয়েছি।ত্রুটি না সারালে সংকট তৈরি হতে পারে,সে বিষয়েও সতর্ক করেছি।সময়মতো সংযোগটি ঠিক করলে এমন ঘটনা ঘটত না।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার নয়ন শীল বলেন,এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম ভালো বলতে পারবেন।পরে যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

এই নৌরুটের যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র অন্যতম সমন্বয়কারী খাদেমুল ইসলাম বলেন,যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের জানানো হয় ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটির কথা।অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফেরির মাস্টারকে পরস্পর দোষারোপ করতে দেখা যায়।আমরা এই ফেরিঘাটে দক্ষ মাস্টার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি জানাই।

Please Share This Post in Your Social Media

ফেরি কপোতাক্ষের ধাক্কায় স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে গেলেন যাত্রীরা।

Update Time : ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Print

ঘাটে ভিড়ছিল ফেরি।তখনই পন্টুনের র‍্যাম্প (ওঠানামার ধাতব পথ)খুলে গিয়ে ধপাস করে পড়ে পানির ওপর। যেখানে র‍্যাম্পটি পড়ে এর পাশেই ২৫ জন যাত্রী নিয়ে অবস্থান করছিল স্পিডবোটটি।সেটি স্রোতের তোড়ে একটু কাত হয়ে উঠতেই আতঙ্কে পানিতে ঝাঁপ দেন বেশ কজন যাত্রী।

 

আজ সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।সাঁতরে তীরে ওঠেন ওই যাত্রীরা।তবে র‍্যাম্প খুলে পড়ার কারণে নামতে না পেরে প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরিতে আটকে ছিল ৯টি মোটরসাইকেলসহ ২৩টি যানবাহন।

 

যাত্রীদের সাঁতরে তীরে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।এতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে পানি থেকে উঠে আসতে দেখা যায়।ঘাটে থাকা যাত্রীদের একজন শরীফ বলেন,ঘটনাটি ভয়াবহ ছিল।র‍্যাম্প খুলে পানিতে পড়ার পর স্পিডবোটটি কাত হয়ে যাচ্ছিল।আতঙ্কে যাত্রীরা পানিতে ঝাঁপ দেন।

 

ঘাটে নিয়োজিত শ্রমিক ফিরোজ আলম(৩২)বলেন, ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সময় তিনি ঘাটে ছিলেন।র‍্যাম্পটি আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল।ফেরি ভেড়ার সময় হঠাৎ সেটি খুলে পড়ে।এতে তিন ঘণ্টা ফেরিতে থাকা যানবাহন আটকে ছিল।

 

ফেরির মাস্টার আমীর হোসেন বলেন,গত এক সপ্তাহ ধরে পন্টুনের সঙ্গে র‍্যাম্পের সংযোগটি ভেঙে পড়ে আছে।আমরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের বারবার জানিয়েছি।ত্রুটি না সারালে সংকট তৈরি হতে পারে,সে বিষয়েও সতর্ক করেছি।সময়মতো সংযোগটি ঠিক করলে এমন ঘটনা ঘটত না।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার নয়ন শীল বলেন,এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম ভালো বলতে পারবেন।পরে যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

এই নৌরুটের যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র অন্যতম সমন্বয়কারী খাদেমুল ইসলাম বলেন,যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের জানানো হয় ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটির কথা।অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফেরির মাস্টারকে পরস্পর দোষারোপ করতে দেখা যায়।আমরা এই ফেরিঘাটে দক্ষ মাস্টার ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পদায়নের দাবি জানাই।