
সন্দ্বীপের তরুণ প্রজন্মের মাঝে অনুপ্রেরণার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাহসী নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাজমুন নাহার মিতু।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন তিনি।ফেসবুক থেকে পাওয়া প্রথম আয়ের পুরো অর্থ তিনি অহায়দের মাঝে বিতরণ করেছেন,যা ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়ভাবে “নাজমুন নাহার” নামে পরিচিত তার ফেসবুক পেইজ অল্প সময়েই ৫৭ হাজারেরও বেশি অনুসারী অর্জন করেছে।এর মাধ্যমে তিনি সন্দ্বীপের সফল নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মগধারা ইউনিয়নে বেড়ে ওঠা মিতু সন্দ্বীপ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং হাজী আব্দুল বাতেন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
২০২৫ সালে হঠাৎ করেই শুরু হয় তার সোশ্যাল মিডিয়া যাত্রা।শুরুতে বাসায় তৈরি বিভিন্ন রান্নার আইটেম—যেমন চিকেন হালিমসহ নানা খাবারের ভিডিও ধারণ করে গানযুক্ত করে ফেসবুকে আপলোড করতেন। প্রথমদিকে তেমন সাড়া না পেলেও ধৈর্য হারাননি তিনি।
পরবর্তীতে সন্দ্বীপের ভাষায় কনটেন্ট শুরু করেন মিতু, একটি ভিডিও ২ মিলিয়নের বেশি ভিউ পায় এবং রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান তিনি।এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।বর্তমানে তার কনটেন্টে মূলত রান্নাবিষয়ক ভিডিও উঠে আসে,যেখানে সন্দ্বীপের ঐতিহ্য,সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত আবেগের সুন্দর মিশ্রণ দেখা যায়।
মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই তিনি ফেসবুক মনিটাইজেশনের আওতায় আসেন,যা তার সাফল্যের বড় মাইলফলক। শুরুতে পারিবারিকভাবে তেমন সমর্থন না পেলেও বর্তমানে স্বামীসহ পরিবার ও আশপাশের মানুষের পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন তিনি।
তবে এই পথ ছিল না সহজ।কনটেন্ট তৈরির যাত্রায় যেমন পেয়েছেন প্রশংসা,তেমনি সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে—বিশেষ করে নারীদের কাছ থেকেই এসেছে নানা নেতিবাচক মন্তব্য।কিন্তু সব বাধাকে শক্তিতে রূপান্তর করে নিজের লক্ষ্যেই অবিচল থেকেছেন মিতু।
নারীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা,প্রত্যেক নারীর উচিত নিজের যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়া।পথে বাধা আসবেই,কিন্তু দৃঢ় মনোভাব থাকলে সফলতা আসবেই।
নাজমুন নাহার মিতুর এই মানবিক উদ্যোগ ও সাফল্য নিঃসন্দেহে সন্দ্বীপের তরুণ সমাজ,বিশেষ করে নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা।
