০১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশায় কয়জন যাত্রী নেওয়া যাবে? চালক ও মালিকদের জন্য নতুন নিয়ম

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7
Print

ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশায় ইচ্ছেমতো যাত্রী বহনের সুযোগ থাকছে না। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার আকার ও অনুমোদিত ধারণক্ষমতা অনুসারে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। নির্ধারিত আসনসংখ্যার বেশি যাত্রী তুললে তা বিধিমালা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু যাত্রীসংখ্যাই নয়, ই-রিকশায় বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন এবং অতিরিক্ত শব্দের হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার জন্য এই বিধিমালা প্রযোজ্য হবে। এতে যানবাহনের যাত্রী ধারণক্ষমতা, মালামাল পরিবহন, শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং গতিসীমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিধিমালার ৮ নম্বর বিধির প্রথম উপবিধি অনুযায়ী, ই-রিকশার আকার অনুসারে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। অর্থাৎ, যে ই-রিকশার অনুমোদিত ধারণক্ষমতা দুইজন যাত্রী, তাতে দুজনের বেশি নেওয়া যাবে না। একইভাবে চারজন যাত্রী বহনের উপযোগী ই-রিকশায় চারজনের বেশি যাত্রী তোলা যাবে না। চালককে এই নির্ধারিত সীমা মেনেই যাত্রী পরিবহন করতে হবে।

সড়কে চলাচলের সময় অনেক ক্ষেত্রে ই-রিকশায় নির্ধারিত আসনের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার প্রবণতা দেখা যায়। নতুন বিধিমালায় যাত্রীসংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় এ ধরনের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সুযোগ সীমিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে যানবাহনের ধারণক্ষমতার সঙ্গে যাত্রীসংখ্যার সামঞ্জস্য বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ই-রিকশার মালিক ও চালকদের তাই গাড়ির অনুমোদিত আসনসংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাত্রী তুলতে হবে।

যাত্রীদের সঙ্গে থাকা মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বিধিমালার ৮ নম্বর বিধির দ্বিতীয় উপবিধি অনুযায়ী, যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। অর্থাৎ যাত্রী নিজের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাগ বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিতে পারবেন। কিন্তু ই-রিকশাকে আলাদা করে মালামাল বা বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই বিধির তৃতীয় উপবিধি অনুযায়ী, ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতাসম্পন্ন হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। ফলে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। ই-রিকশার মালিকদের হর্ন সংযোজন বা পরিবর্তনের সময় এই সীমা অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চালকদের কম গতিতে গাড়ি চালাতে হবে।

নতুন বিধিমালায় যাত্রীসংখ্যা, মালামাল পরিবহন, হর্নের শব্দ ও গতিসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ই-রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে মালিক ও চালকদের শুধু নিবন্ধন ও রুটের নিয়ম নয়, যাত্রী বহন এবং যানবাহনের অন্যান্য কারিগরি শর্তও মেনে চলতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

অটোরিকশায় কয়জন যাত্রী নেওয়া যাবে? চালক ও মালিকদের জন্য নতুন নিয়ম

Update Time : ০৬:২৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশায় ইচ্ছেমতো যাত্রী বহনের সুযোগ থাকছে না। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার আকার ও অনুমোদিত ধারণক্ষমতা অনুসারে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। নির্ধারিত আসনসংখ্যার বেশি যাত্রী তুললে তা বিধিমালা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু যাত্রীসংখ্যাই নয়, ই-রিকশায় বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন এবং অতিরিক্ত শব্দের হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার জন্য এই বিধিমালা প্রযোজ্য হবে। এতে যানবাহনের যাত্রী ধারণক্ষমতা, মালামাল পরিবহন, শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং গতিসীমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিধিমালার ৮ নম্বর বিধির প্রথম উপবিধি অনুযায়ী, ই-রিকশার আকার অনুসারে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। অর্থাৎ, যে ই-রিকশার অনুমোদিত ধারণক্ষমতা দুইজন যাত্রী, তাতে দুজনের বেশি নেওয়া যাবে না। একইভাবে চারজন যাত্রী বহনের উপযোগী ই-রিকশায় চারজনের বেশি যাত্রী তোলা যাবে না। চালককে এই নির্ধারিত সীমা মেনেই যাত্রী পরিবহন করতে হবে।

সড়কে চলাচলের সময় অনেক ক্ষেত্রে ই-রিকশায় নির্ধারিত আসনের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার প্রবণতা দেখা যায়। নতুন বিধিমালায় যাত্রীসংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় এ ধরনের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সুযোগ সীমিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে যানবাহনের ধারণক্ষমতার সঙ্গে যাত্রীসংখ্যার সামঞ্জস্য বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ই-রিকশার মালিক ও চালকদের তাই গাড়ির অনুমোদিত আসনসংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাত্রী তুলতে হবে।

যাত্রীদের সঙ্গে থাকা মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বিধিমালার ৮ নম্বর বিধির দ্বিতীয় উপবিধি অনুযায়ী, যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। অর্থাৎ যাত্রী নিজের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাগ বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিতে পারবেন। কিন্তু ই-রিকশাকে আলাদা করে মালামাল বা বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই বিধির তৃতীয় উপবিধি অনুযায়ী, ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতাসম্পন্ন হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। ফলে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। ই-রিকশার মালিকদের হর্ন সংযোজন বা পরিবর্তনের সময় এই সীমা অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চালকদের কম গতিতে গাড়ি চালাতে হবে।

নতুন বিধিমালায় যাত্রীসংখ্যা, মালামাল পরিবহন, হর্নের শব্দ ও গতিসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ই-রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে মালিক ও চালকদের শুধু নিবন্ধন ও রুটের নিয়ম নয়, যাত্রী বহন এবং যানবাহনের অন্যান্য কারিগরি শর্তও মেনে চলতে হবে।