১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অটোরিকশার রুট ও চলাচলের নিয়ম: কোন সড়কে চলবে, কোথায় নিষেধ?

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13
Print

ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণের বিধান করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে ই-রিকশার চলাচলের সড়ক নির্ধারণ করবে। এক জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়কসহ নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় ই-রিকশা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, যাত্রী পরিবহন, গতিসীমা, পার্কিং এবং সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে মালিক ও চালকদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

বিধিমালার ৯ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, ই-রিকশার চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করবে। এই রুট ব্যবস্থাপনা হবে জোনভিত্তিক। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই-রিকশা অন্য জোনে গিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এতে প্রতিটি এলাকার জন্য আলাদা চলাচলব্যবস্থা কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগকে জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি জোনে কোন কোন সড়কে ই-রিকশা চলবে, সেই সড়কগুলো নির্ধারণের পাশাপাশি ওই জোনে কতসংখ্যক ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, সেটিও নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে শুধু নিবন্ধন থাকলেই যেকোনো সড়কে ই-রিকশা চালানোর সুযোগ থাকবে না; নির্ধারিত এলাকা ও রুটের শর্তও মানতে হবে।

সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়কে চলতে পারবে না। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময় সময় যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব রাস্তাতেও ই-রিকশা চালানো যাবে না। ফুটপাত দিয়ে ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অনুমোদিত সড়কে চলাচলের সময় ই-রিকশাকে রাস্তার বাম পাশ অথবা নির্ধারিত লেন অনুসরণ করতে হবে। চালকের জন্য গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সড়কে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ই-রিকশার গতিসীমার বিষয়টিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারবে না। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার রাখতে হবে। অর্থাৎ, এসব সংবেদনশীল ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় চালকদের আরও কম গতিতে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ই-রিকশার ধরন ও আকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের অনুমতি নেই। ফলে যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ই-রিকশাকে মালামাল বহনের বাণিজ্যিক বাহন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

বিধিমালায় নিবন্ধনবিহীন এবং যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাগত ত্রুটিযুক্ত ই-রিকশা চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোনো ই-রিকশায় ত্রুটি শনাক্ত হলে সেটিকে চলাচলের অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে দৃশ্যমান স্থানে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অনুপযোগী’ লেখা সাইনবোর্ড প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সড়কে চালানো যাবে না।

নতুন বিধিমালার এসব নির্দেশনার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার চলাচল নির্দিষ্ট রুট ও জোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গণপরিবহনের চলাচলের পথ এবং ফুটপাতকে ই-রিকশার অননুমোদিত ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখার বিধান রয়েছে। তবে নিয়মগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত রুট, জোন এবং যানবাহনের সংখ্যার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই ই-রিকশার মালিক ও চালকদের নিবন্ধনের পাশাপাশি অনুমোদিত রুট, গতিসীমা এবং সড়ক ব্যবহারের সব শর্ত মেনে চলতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

অটোরিকশার রুট ও চলাচলের নিয়ম: কোন সড়কে চলবে, কোথায় নিষেধ?

Update Time : ১০:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণের বিধান করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে ই-রিকশার চলাচলের সড়ক নির্ধারণ করবে। এক জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে পারবে না। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়কসহ নির্দিষ্ট কিছু রাস্তায় ই-রিকশা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, যাত্রী পরিবহন, গতিসীমা, পার্কিং এবং সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে মালিক ও চালকদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

বিধিমালার ৯ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, ই-রিকশার চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট নির্ধারণ করবে। এই রুট ব্যবস্থাপনা হবে জোনভিত্তিক। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই-রিকশা অন্য জোনে গিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এতে প্রতিটি এলাকার জন্য আলাদা চলাচলব্যবস্থা কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগকে জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি জোনে কোন কোন সড়কে ই-রিকশা চলবে, সেই সড়কগুলো নির্ধারণের পাশাপাশি ওই জোনে কতসংখ্যক ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, সেটিও নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে শুধু নিবন্ধন থাকলেই যেকোনো সড়কে ই-রিকশা চালানোর সুযোগ থাকবে না; নির্ধারিত এলাকা ও রুটের শর্তও মানতে হবে।

সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়কে চলতে পারবে না। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময় সময় যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব রাস্তাতেও ই-রিকশা চালানো যাবে না। ফুটপাত দিয়ে ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অনুমোদিত সড়কে চলাচলের সময় ই-রিকশাকে রাস্তার বাম পাশ অথবা নির্ধারিত লেন অনুসরণ করতে হবে। চালকের জন্য গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সড়কে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ই-রিকশার গতিসীমার বিষয়টিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারবে না। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার রাখতে হবে। অর্থাৎ, এসব সংবেদনশীল ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় চালকদের আরও কম গতিতে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ই-রিকশার ধরন ও আকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের অনুমতি নেই। ফলে যাত্রী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ই-রিকশাকে মালামাল বহনের বাণিজ্যিক বাহন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

বিধিমালায় নিবন্ধনবিহীন এবং যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাগত ত্রুটিযুক্ত ই-রিকশা চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোনো ই-রিকশায় ত্রুটি শনাক্ত হলে সেটিকে চলাচলের অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে দৃশ্যমান স্থানে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অনুপযোগী’ লেখা সাইনবোর্ড প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মেরামত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সড়কে চালানো যাবে না।

নতুন বিধিমালার এসব নির্দেশনার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার চলাচল নির্দিষ্ট রুট ও জোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গণপরিবহনের চলাচলের পথ এবং ফুটপাতকে ই-রিকশার অননুমোদিত ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখার বিধান রয়েছে। তবে নিয়মগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত রুট, জোন এবং যানবাহনের সংখ্যার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই ই-রিকশার মালিক ও চালকদের নিবন্ধনের পাশাপাশি অনুমোদিত রুট, গতিসীমা এবং সড়ক ব্যবহারের সব শর্ত মেনে চলতে হবে।