আগামী গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী
- Update Time : ০২:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 6

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যুতের খরচও কমাতে চায় সরকার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে আগামী দিনের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের প্রত্যাশা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নিজস্ব ব্যবহারের পর যাঁরা অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন, তাঁদের কাছ থেকে বিশেষ প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনা হবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালুর কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।























