০৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আত্রাইয়ের লেপ-তোষক কারিগররা, বেড়েছে দাম

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5
Print

শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই নওগাঁর আত্রাইয়ে লেপ-তোষক তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। আগাম শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই তৈরি করে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় লেপ ও তোষক। তবে তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর এসব পণ্য তৈরিতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে লেপ-তোষক তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কেউ তুলা ধুনছেন, কেউ কাপড়ের ভেতরে তুলা ভরছেন, আবার কেউ সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত। শীতের প্রস্তুতি নিতে আগেভাগেই অনেকে লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।

বাজারের কারিগর শ্রী তপন সাহা ও আবুল কালাম আজাদ জানান, এ বছর তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লেপ বা তোষক তৈরি করে একজন শ্রমিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। বছরের প্রায় নয় মাস এ কাজের চাপ কম থাকে। এ সময় অনেক কারিগরকে অন্য কাজ করতে হয়। কেউ কেউ বিকল্প পেশায়ও যুক্ত থাকেন।

কারিগরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে একটি লেপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অন্যদিকে একটি তোষক তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় এ বছর এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

স্থানীয় চারজন কারিগর জানান, একটি লেপ তৈরি করতে একজন কারিগরের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। দক্ষতা ও কাজের ধরন অনুযায়ী একজন কারিগর দিনে গড়ে তিন থেকে পাঁচটি লেপ তৈরি করতে পারেন। একইভাবে দিনে চার থেকে পাঁচটি তোষক তৈরির কাজও করেন তাঁরা। তবে তোষকের আকার এবং তুলা, কাপড় ও অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ অনুযায়ী তৈরির সময় কমবেশি হয়।

স্থানীয় এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, তুলার দাম বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় লেপ, তোষক ও গদি তৈরির খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের চাহিদা ও বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে শীতকে সামনে রেখে আত্রাইয়ের লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। শীত যত ঘনিয়ে আসবে, ততই অর্ডার ও বিক্রি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারিগররা।

Please Share This Post in Your Social Media

শীতের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আত্রাইয়ের লেপ-তোষক কারিগররা, বেড়েছে দাম

Update Time : ০২:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Print

শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই নওগাঁর আত্রাইয়ে লেপ-তোষক তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। আগাম শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই তৈরি করে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় লেপ ও তোষক। তবে তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর এসব পণ্য তৈরিতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে লেপ-তোষক তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কেউ তুলা ধুনছেন, কেউ কাপড়ের ভেতরে তুলা ভরছেন, আবার কেউ সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত। শীতের প্রস্তুতি নিতে আগেভাগেই অনেকে লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।

বাজারের কারিগর শ্রী তপন সাহা ও আবুল কালাম আজাদ জানান, এ বছর তুলার দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লেপ বা তোষক তৈরি করে একজন শ্রমিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। বছরের প্রায় নয় মাস এ কাজের চাপ কম থাকে। এ সময় অনেক কারিগরকে অন্য কাজ করতে হয়। কেউ কেউ বিকল্প পেশায়ও যুক্ত থাকেন।

কারিগরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে একটি লেপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অন্যদিকে একটি তোষক তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় এ বছর এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

স্থানীয় চারজন কারিগর জানান, একটি লেপ তৈরি করতে একজন কারিগরের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। দক্ষতা ও কাজের ধরন অনুযায়ী একজন কারিগর দিনে গড়ে তিন থেকে পাঁচটি লেপ তৈরি করতে পারেন। একইভাবে দিনে চার থেকে পাঁচটি তোষক তৈরির কাজও করেন তাঁরা। তবে তোষকের আকার এবং তুলা, কাপড় ও অন্যান্য উপকরণের পরিমাণ অনুযায়ী তৈরির সময় কমবেশি হয়।

স্থানীয় এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, তুলার দাম বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় লেপ, তোষক ও গদি তৈরির খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের চাহিদা ও বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে শীতকে সামনে রেখে আত্রাইয়ের লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। শীত যত ঘনিয়ে আসবে, ততই অর্ডার ও বিক্রি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারিগররা।