০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারিয়ে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সময়

Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 6
Print

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে তাঁর প্রশাসন।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ, মূল্যস্ফীতি, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের নীতির প্রতি ভোটারদের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেট নির্বাচনে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, কানসাস ও আইওয়ার মতো রাজ্যে আসন দখল করেছে দলটি। এসব রাজ্যের কয়েকটিতে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

সাউথ ক্যারোলাইনায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। অন্যদিকে, টেক্সাসে ১৯৯৪ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি। কানসাসেও দীর্ঘদিন ধরে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আধিপত্য ছিল। এসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

নির্বাচন-পরবর্তী জরিপে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের ছয়জনের বেশি ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারের ধারণা, ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। সেখানে নিয়ন্ত্রণ নিতে দলটির প্রয়োজন ছিল অল্প কয়েকটি আসন বাড়ানো। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ অর্জন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য। কারণ, এ জন্য ট্রাম্পের জেতা একাধিক রাজ্যে রিপাবলিকানদের আসন দখল করতে হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এত দিন রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কংগ্রেসে প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়েছে। এখন ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবে। এসব তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং শুনানির আয়োজনের সুযোগও থাকবে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। প্রেসিডেন্ট বিচারক মনোনীত করলেও তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া বিলম্বিত বা আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সুপ্রিম কোর্টে কোনো পদ শূন্য হলে নতুন বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিজেদের সব নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দিতে পারেন। আবার সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ আইন পাসের জন্য সাধারণত ৬০ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল কার্যকর হলে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের বিরোধ বাড়তে পারে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, বাজেট ও আইন প্রণয়ন এবং বিচারক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিএনএন, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

Please Share This Post in Your Social Media

কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারিয়ে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সময়

Update Time : ০১:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Print

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে তাঁর প্রশাসন।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ, মূল্যস্ফীতি, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের নীতির প্রতি ভোটারদের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেট নির্বাচনে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, কানসাস ও আইওয়ার মতো রাজ্যে আসন দখল করেছে দলটি। এসব রাজ্যের কয়েকটিতে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

সাউথ ক্যারোলাইনায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। অন্যদিকে, টেক্সাসে ১৯৯৪ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি। কানসাসেও দীর্ঘদিন ধরে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আধিপত্য ছিল। এসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

নির্বাচন-পরবর্তী জরিপে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের ছয়জনের বেশি ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারের ধারণা, ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। সেখানে নিয়ন্ত্রণ নিতে দলটির প্রয়োজন ছিল অল্প কয়েকটি আসন বাড়ানো। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ অর্জন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য। কারণ, এ জন্য ট্রাম্পের জেতা একাধিক রাজ্যে রিপাবলিকানদের আসন দখল করতে হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এত দিন রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কংগ্রেসে প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়েছে। এখন ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবে। এসব তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং শুনানির আয়োজনের সুযোগও থাকবে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। প্রেসিডেন্ট বিচারক মনোনীত করলেও তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া বিলম্বিত বা আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সুপ্রিম কোর্টে কোনো পদ শূন্য হলে নতুন বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিনেটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিজেদের সব নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দিতে পারেন। আবার সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ আইন পাসের জন্য সাধারণত ৬০ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল কার্যকর হলে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের বিরোধ বাড়তে পারে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, বাজেট ও আইন প্রণয়ন এবং বিচারক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিএনএন, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান