০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করবেন যেভাবে

Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
Print

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন এখন নাগরিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। শিশুর স্কুলে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, পাসপোর্ট আবেদন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা ভিসা প্রক্রিয়াসহ নানা কাজে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকের জন্ম নিবন্ধন সনদে শুধু বাংলায় তথ্য রয়েছে। ফলে পাসপোর্ট বা বিদেশে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তাঁরা জানতে চান, বাংলা জন্ম নিবন্ধন ইংরেজিতে করবেন কীভাবে, কোথায় আবেদন করতে হবে এবং নতুন ইংরেজি সনদ পেতে কত সময় লাগতে পারে।

জন্ম নিবন্ধনের বাংলা তথ্যের পাশাপাশি ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা এখন তুলনামূলক সহজ। তবে বিষয়টি বুঝতে হবে সঠিকভাবে। কারণ জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে যাচাই করা এবং সনদে ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা এক কাজ নয়। যাঁদের জন্ম নিবন্ধনের ডাটাবেজে ইংরেজি নাম, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানা নেই, তাঁদের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংযোজন বা সংশোধনের আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের পর ইংরেজি তথ্যসহ সনদ পাওয়া যায়।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রথম থেকেই বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আগে শুধু বাংলায় নিবন্ধিত হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে ইংরেজি তথ্য যুক্ত করাও সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করা বলতে কী বোঝায়?

বাংলা জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করা বলতে মূলত বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করাকে বোঝায়। এটি নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা নয়। একই ব্যক্তির জন্য নতুন করে দ্বিতীয় জন্ম নিবন্ধন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

উদাহরণ হিসেবে, কারও জন্ম নিবন্ধনে নাম বাংলায় লেখা আছে, কিন্তু ইংরেজি নামের ঘরটি ফাঁকা। আবার কারও নিজের নাম ইংরেজিতে থাকলেও বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানা ইংরেজিতে নেই। এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন করতে হয়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইংরেজি বানান যেন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ এবং বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। নামের বানানে অমিল থাকলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, ভিসা বা বিদেশে পড়াশোনার আবেদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলা জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার জন্য প্রথমে BDRIS-এর সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনের নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধনের তথ্য শনাক্ত করে সংশোধনের আবেদন করতে হয়।

আবেদন করার আগে নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানার ইংরেজি বানান নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করে রাখা ভালো। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ বা বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রের সঙ্গে বানান মিলিয়ে নিন।

প্রক্রিয়াটি সাধারণভাবে এভাবে অনুসরণ করতে পারেন:

প্রথমে BDRIS-এর সরকারি ওয়েবসাইট https://bdris.gov.bd/ খুলুন। এরপর জন্ম নিবন্ধন বিভাগের ‘জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন’ অপশনে প্রবেশ করুন।

এরপর নির্ধারিত ঘরে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধনের তথ্য খুঁজে বের করুন। প্রদর্শিত তথ্য নিজের সনদের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

যে তথ্য ইংরেজিতে নেই, সংশোধনের বিষয় হিসেবে সেটি নির্বাচন করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার নাম অথবা ঠিকানার ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার আবেদন করতে হবে। সংশোধনের কারণ হিসেবে বিদ্যমান নিবন্ধনে ইংরেজি তথ্য না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে।

এরপর আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন এবং সিস্টেমে চাওয়া কাগজপত্রের স্ক্যান বা ছবি সংযুক্ত করুন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজি বানান, জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের ক্ষেত্রে ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের নম্বর বা প্রাপ্তি কপি সংরক্ষণ করুন। সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় আবেদন যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে মূল কাগজপত্রসহ অফিসে উপস্থিত হতে বলা হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে ইংরেজি তথ্যসহ জন্ম নিবন্ধনের সনদ পুনর্মুদ্রণ বা সংগ্রহ করা যাবে।

কোথায় আবেদন করতে হবে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত যে নিবন্ধন কার্যালয় থেকে মূল জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে, সেই কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। জন্ম নিবন্ধনের ধরন ও নিবন্ধন অফিস অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয় এ বিষয়ে কাজ করে।

অনলাইনে আবেদন করা গেলেও সেটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। অন্য কোনো অফিসে গেলেই যে মূল নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের FAQ অনুযায়ী, সংশোধন বা সনদ পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজন হলে মূল নিবন্ধন কার্যালয় থেকেই তা করার নিয়ম রয়েছে। তবে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসের সহায়তা নিয়ে অথবা নাগরিক নিজে অনলাইনে মূল নিবন্ধন অফিস বরাবর প্রয়োজনীয় দলিলসহ আবেদন করতে পারেন।

কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর বয়স, বিদ্যমান নিবন্ধনের অবস্থা এবং কোন তথ্য সংশোধন বা সংযোজন করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে।

সাধারণভাবে নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো:

১. বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।

২. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, যদি থাকে।

৩. বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।

৪. আবেদনকারীর নামের ইংরেজি বানান যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত সনদ, যদি থাকে।

৫. ঠিকানার তথ্য সংশোধন বা সংযোজনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ঠিকানার প্রমাণপত্র, প্রয়োজন হলে।

৬. সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় যে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইবে।

সব আবেদনকারীর জন্য একই কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। তাই আবেদন করার সময় BDRIS-এ প্রদর্শিত নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের চাহিদা অনুসরণ করতে হবে।

পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন হলে কী করবেন?

বাংলাদেশে অনেকের জন্ম নিবন্ধন এখনো পুরোনো হাতে লেখা সনদে রয়েছে। এসব সনদের তথ্য অনলাইনে পাওয়া না গেলে সরাসরি ইংরেজি তথ্য যুক্ত করে সনদ ডাউনলোড করা সম্ভব হবে না। আগে দেখতে হবে, পুরোনো নিবন্ধনের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে রয়েছে কি না।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের FAQ-তে বলা হয়েছে, অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যে এলাকায় নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই কার্যালয়ের সংরক্ষিত নিবন্ধন বইয়ে তথ্য পাওয়া গেলে এবং অন্য কোথাও একই ব্যক্তির নিবন্ধন না থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

তাই পুরোনো সনদ থাকলে সেটি নিয়ে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেখানে যোগাযোগ করুন। নিবন্ধন বইয়ে তথ্য পাওয়া গেলে অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ইংরেজি তথ্য সংযোজনের প্রয়োজন হলে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধন করবেন না। একই ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরকারি নথি ব্যবহারে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যাচাই করবেন যেভাবে

ইংরেজি তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সনদে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানার বানান ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। শুধু সনদ হাতে পেলেই কাজ শেষ নয়; সব তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন তথ্য যাচাই করার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট https://everify.bdris.gov.bd/ ব্যবহার করা যায়। সেখানে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে রেকর্ড যাচাই করা যায়।

তবে এই ওয়েবসাইট মূলত জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য। এটি ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন করার ওয়েবসাইট নয়। ইংরেজি তথ্য না থাকলে আগে BDRIS-এর সংশোধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে কত টাকা ফি দিতে হবে, তা সংশোধনের ধরন ও প্রযোজ্য সরকারি ফি-নীতির ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা নির্দিষ্ট ফি অথবা সব ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সেবা পাওয়া যাবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়।

আবেদন জমা দেওয়ার সময় BDRIS-এ প্রদর্শিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। সরকারি ফি জমা দিলে অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করবেন।

কত দিনে ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায়?

ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন অনুমোদনের সময় নির্দিষ্ট করে সবার জন্য বলা যায় না। আবেদনকারীর তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নিবন্ধন কার্যালয়ের কার্যক্রম এবং কোনো অতিরিক্ত অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর সময় নির্ভর করে।

তথ্য আগে থেকেই অনলাইনে থাকলে এবং সংশোধনের আবেদন দ্রুত যাচাই হলে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে পুরোনো হাতে লেখা সনদের তথ্য খুঁজে বের করা বা ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ১ থেকে ৭ দিন বা ৭ থেকে ৩০ দিনের নিশ্চয়তা ধরে পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারেন।

ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন কি পাসপোর্ট ও ভিসার কাজে ব্যবহার করা যাবে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্যসহ সরকারি সনদ পরিচয় ও জন্মসংক্রান্ত তথ্যের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন হতে পারে। তবে পাসপোর্ট, ভিসা, বিদেশে ভর্তি বা চাকরির আবেদনে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, দূতাবাস বা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত প্রত্যয়ন, অনুবাদ, নোটারি বা সত্যায়িত কপি চাইতে পারে। তাই শুধু ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন থাকলেই সব দেশের সব প্রতিষ্ঠানে সেটি একাই যথেষ্ট হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিদেশে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে নিন।

ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে নামের বানান নিয়ে। নিজের নামের বানান পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রে যেভাবে রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখুন। বাবা-মায়ের নামের ক্ষেত্রেও তাঁদের সরকারি পরিচয়পত্রের বানান অনুসরণ করা ভালো।

জন্মতারিখ পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন করবেন না। বাংলা তথ্যের সঙ্গে ইংরেজি তথ্যের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। কোনো তথ্য ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র দিতে হবে।

এ ছাড়া অননুমোদিত ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধনের নম্বর, জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। সরকারি কাজের জন্য BDRIS এবং রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি কপি সংরক্ষণ করুন এবং অনুমোদনের আগে নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করবেন না।

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা কঠিন কোনো কাজ নয়, তবে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। প্রথমে অনলাইনে নিজের নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন। ইংরেজি তথ্য না থাকলে BDRIS-এর সংশোধন আবেদন ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজনের আবেদন করুন এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। পুরোনো হাতে লেখা সনদ হলে আগে মূল নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করুন। এভাবে সঠিক তথ্যসহ ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কাজে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করবেন যেভাবে

Update Time : ০১:২৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Print

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন এখন নাগরিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। শিশুর স্কুলে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, পাসপোর্ট আবেদন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা ভিসা প্রক্রিয়াসহ নানা কাজে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকের জন্ম নিবন্ধন সনদে শুধু বাংলায় তথ্য রয়েছে। ফলে পাসপোর্ট বা বিদেশে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তাঁরা জানতে চান, বাংলা জন্ম নিবন্ধন ইংরেজিতে করবেন কীভাবে, কোথায় আবেদন করতে হবে এবং নতুন ইংরেজি সনদ পেতে কত সময় লাগতে পারে।

জন্ম নিবন্ধনের বাংলা তথ্যের পাশাপাশি ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা এখন তুলনামূলক সহজ। তবে বিষয়টি বুঝতে হবে সঠিকভাবে। কারণ জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে যাচাই করা এবং সনদে ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা এক কাজ নয়। যাঁদের জন্ম নিবন্ধনের ডাটাবেজে ইংরেজি নাম, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানা নেই, তাঁদের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংযোজন বা সংশোধনের আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের পর ইংরেজি তথ্যসহ সনদ পাওয়া যায়।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রথম থেকেই বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আগে শুধু বাংলায় নিবন্ধিত হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে ইংরেজি তথ্য যুক্ত করাও সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করা বলতে কী বোঝায়?

বাংলা জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করা বলতে মূলত বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করাকে বোঝায়। এটি নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা নয়। একই ব্যক্তির জন্য নতুন করে দ্বিতীয় জন্ম নিবন্ধন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

উদাহরণ হিসেবে, কারও জন্ম নিবন্ধনে নাম বাংলায় লেখা আছে, কিন্তু ইংরেজি নামের ঘরটি ফাঁকা। আবার কারও নিজের নাম ইংরেজিতে থাকলেও বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানা ইংরেজিতে নেই। এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন করতে হয়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইংরেজি বানান যেন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ এবং বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। নামের বানানে অমিল থাকলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, ভিসা বা বিদেশে পড়াশোনার আবেদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বাংলা জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার জন্য প্রথমে BDRIS-এর সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনের নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধনের তথ্য শনাক্ত করে সংশোধনের আবেদন করতে হয়।

আবেদন করার আগে নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানার ইংরেজি বানান নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করে রাখা ভালো। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ বা বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রের সঙ্গে বানান মিলিয়ে নিন।

প্রক্রিয়াটি সাধারণভাবে এভাবে অনুসরণ করতে পারেন:

প্রথমে BDRIS-এর সরকারি ওয়েবসাইট https://bdris.gov.bd/ খুলুন। এরপর জন্ম নিবন্ধন বিভাগের ‘জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন’ অপশনে প্রবেশ করুন।

এরপর নির্ধারিত ঘরে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে নিবন্ধনের তথ্য খুঁজে বের করুন। প্রদর্শিত তথ্য নিজের সনদের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

যে তথ্য ইংরেজিতে নেই, সংশোধনের বিষয় হিসেবে সেটি নির্বাচন করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তির নাম, পিতা-মাতার নাম অথবা ঠিকানার ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার আবেদন করতে হবে। সংশোধনের কারণ হিসেবে বিদ্যমান নিবন্ধনে ইংরেজি তথ্য না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে।

এরপর আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন এবং সিস্টেমে চাওয়া কাগজপত্রের স্ক্যান বা ছবি সংযুক্ত করুন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজি বানান, জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের ক্ষেত্রে ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের নম্বর বা প্রাপ্তি কপি সংরক্ষণ করুন। সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় আবেদন যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে মূল কাগজপত্রসহ অফিসে উপস্থিত হতে বলা হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে ইংরেজি তথ্যসহ জন্ম নিবন্ধনের সনদ পুনর্মুদ্রণ বা সংগ্রহ করা যাবে।

কোথায় আবেদন করতে হবে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত যে নিবন্ধন কার্যালয় থেকে মূল জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে, সেই কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। জন্ম নিবন্ধনের ধরন ও নিবন্ধন অফিস অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয় এ বিষয়ে কাজ করে।

অনলাইনে আবেদন করা গেলেও সেটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। অন্য কোনো অফিসে গেলেই যে মূল নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের FAQ অনুযায়ী, সংশোধন বা সনদ পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজন হলে মূল নিবন্ধন কার্যালয় থেকেই তা করার নিয়ম রয়েছে। তবে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসের সহায়তা নিয়ে অথবা নাগরিক নিজে অনলাইনে মূল নিবন্ধন অফিস বরাবর প্রয়োজনীয় দলিলসহ আবেদন করতে পারেন।

কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর বয়স, বিদ্যমান নিবন্ধনের অবস্থা এবং কোন তথ্য সংশোধন বা সংযোজন করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে।

সাধারণভাবে নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো:

১. বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।

২. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, যদি থাকে।

৩. বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।

৪. আবেদনকারীর নামের ইংরেজি বানান যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট বা শিক্ষাগত সনদ, যদি থাকে।

৫. ঠিকানার তথ্য সংশোধন বা সংযোজনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ঠিকানার প্রমাণপত্র, প্রয়োজন হলে।

৬. সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় যে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইবে।

সব আবেদনকারীর জন্য একই কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। তাই আবেদন করার সময় BDRIS-এ প্রদর্শিত নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের চাহিদা অনুসরণ করতে হবে।

পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন হলে কী করবেন?

বাংলাদেশে অনেকের জন্ম নিবন্ধন এখনো পুরোনো হাতে লেখা সনদে রয়েছে। এসব সনদের তথ্য অনলাইনে পাওয়া না গেলে সরাসরি ইংরেজি তথ্য যুক্ত করে সনদ ডাউনলোড করা সম্ভব হবে না। আগে দেখতে হবে, পুরোনো নিবন্ধনের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে রয়েছে কি না।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের FAQ-তে বলা হয়েছে, অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যে এলাকায় নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই কার্যালয়ের সংরক্ষিত নিবন্ধন বইয়ে তথ্য পাওয়া গেলে এবং অন্য কোথাও একই ব্যক্তির নিবন্ধন না থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

তাই পুরোনো সনদ থাকলে সেটি নিয়ে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেখানে যোগাযোগ করুন। নিবন্ধন বইয়ে তথ্য পাওয়া গেলে অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ইংরেজি তথ্য সংযোজনের প্রয়োজন হলে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধন করবেন না। একই ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরকারি নথি ব্যবহারে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যাচাই করবেন যেভাবে

ইংরেজি তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সনদে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম এবং ঠিকানার বানান ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। শুধু সনদ হাতে পেলেই কাজ শেষ নয়; সব তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন তথ্য যাচাই করার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট https://everify.bdris.gov.bd/ ব্যবহার করা যায়। সেখানে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে রেকর্ড যাচাই করা যায়।

তবে এই ওয়েবসাইট মূলত জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য। এটি ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন করার ওয়েবসাইট নয়। ইংরেজি তথ্য না থাকলে আগে BDRIS-এর সংশোধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে কত টাকা ফি দিতে হবে, তা সংশোধনের ধরন ও প্রযোজ্য সরকারি ফি-নীতির ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা নির্দিষ্ট ফি অথবা সব ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সেবা পাওয়া যাবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়।

আবেদন জমা দেওয়ার সময় BDRIS-এ প্রদর্শিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। সরকারি ফি জমা দিলে অবশ্যই রসিদ সংগ্রহ করবেন।

কত দিনে ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায়?

ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন অনুমোদনের সময় নির্দিষ্ট করে সবার জন্য বলা যায় না। আবেদনকারীর তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নিবন্ধন কার্যালয়ের কার্যক্রম এবং কোনো অতিরিক্ত অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর সময় নির্ভর করে।

তথ্য আগে থেকেই অনলাইনে থাকলে এবং সংশোধনের আবেদন দ্রুত যাচাই হলে তুলনামূলক কম সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে পুরোনো হাতে লেখা সনদের তথ্য খুঁজে বের করা বা ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ১ থেকে ৭ দিন বা ৭ থেকে ৩০ দিনের নিশ্চয়তা ধরে পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারেন।

ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন কি পাসপোর্ট ও ভিসার কাজে ব্যবহার করা যাবে?

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্যসহ সরকারি সনদ পরিচয় ও জন্মসংক্রান্ত তথ্যের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন কাজে প্রয়োজন হতে পারে। তবে পাসপোর্ট, ভিসা, বিদেশে ভর্তি বা চাকরির আবেদনে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, দূতাবাস বা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত প্রত্যয়ন, অনুবাদ, নোটারি বা সত্যায়িত কপি চাইতে পারে। তাই শুধু ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন থাকলেই সব দেশের সব প্রতিষ্ঠানে সেটি একাই যথেষ্ট হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিদেশে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে নিন।

ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে নামের বানান নিয়ে। নিজের নামের বানান পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রে যেভাবে রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখুন। বাবা-মায়ের নামের ক্ষেত্রেও তাঁদের সরকারি পরিচয়পত্রের বানান অনুসরণ করা ভালো।

জন্মতারিখ পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে ইংরেজি তথ্য সংযোজনের আবেদন করবেন না। বাংলা তথ্যের সঙ্গে ইংরেজি তথ্যের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। কোনো তথ্য ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র দিতে হবে।

এ ছাড়া অননুমোদিত ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধনের নম্বর, জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। সরকারি কাজের জন্য BDRIS এবং রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি কপি সংরক্ষণ করুন এবং অনুমোদনের আগে নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করবেন না।

জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা কঠিন কোনো কাজ নয়, তবে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। প্রথমে অনলাইনে নিজের নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন। ইংরেজি তথ্য না থাকলে BDRIS-এর সংশোধন আবেদন ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজনের আবেদন করুন এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। পুরোনো হাতে লেখা সনদ হলে আগে মূল নিবন্ধন কার্যালয়ের মাধ্যমে তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করুন। এভাবে সঠিক তথ্যসহ ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কাজে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো সম্ভব।