০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে গেছে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বর, হারিয়েছে সৌন্দর্য

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 10
Print

খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বর। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাজার এলাকার মাঝখানে অবস্থিত এই চত্বরটি একসময় ছিল শহরের অন্যতম সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে এর আগের সৌন্দর্য। এর সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে পড়েছে চত্বরের মূল স্থাপনা।

একসময় সন্ধ্যা নামলেই শাপলা চত্বরের ফোয়ারা থেকে পানির ধারা প্রবাহিত হতো। আলোকসজ্জা ও পানির সমন্বয়ে তৈরি হতো মনোরম পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছেও এটি ছিল আকর্ষণীয় স্থান। অনেকেই সেখানে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। কিন্তু বর্তমানে ফোয়ারাটি বন্ধ থাকায় এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় চত্বরটি তার আগের সৌন্দর্য হারিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, চত্বরটির চারপাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শুভেচ্ছা ব্যানার, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রচারসামগ্রী, ধর্মীয় সভা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো রয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আড়ালে অনেকাংশেই ঢাকা পড়েছে শাপলা চত্বরের মূল স্থাপনা।

স্থানীয়দের মতে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও নান্দনিক এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর কারণে চত্বরটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের পরিচিত এই স্থাপনাটির স্বাভাবিক দৃশ্যও আড়ালে চলে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর বিষয়ে পৌরসভা কিংবা জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা রয়েছে কি না, তা নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন নাগরিক বলেন, শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে সব ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চত্বর ও এর আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো নিষিদ্ধ করে কার্যকর নির্দেশনা জারি করা উচিত।

শাপলা চত্বরের পুরোনো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। এর মধ্যে রয়েছে, চত্বর থেকে সব ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ, চত্বরের আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকাকে ব্যানার-ফেস্টুনমুক্ত ঘোষণা এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া ফোয়ারা সচল করা এবং আগের মতো আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার দাবিও উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর শুধু অবকাঠামোগত স্থাপনা নয়, এটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচিতির অংশ। তাই খাগড়াছড়ির অন্যতম পরিচিত স্থান শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে গেছে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বর, হারিয়েছে সৌন্দর্য

Update Time : ০৪:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বর। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাজার এলাকার মাঝখানে অবস্থিত এই চত্বরটি একসময় ছিল শহরের অন্যতম সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে এর আগের সৌন্দর্য। এর সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে পড়েছে চত্বরের মূল স্থাপনা।

একসময় সন্ধ্যা নামলেই শাপলা চত্বরের ফোয়ারা থেকে পানির ধারা প্রবাহিত হতো। আলোকসজ্জা ও পানির সমন্বয়ে তৈরি হতো মনোরম পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছেও এটি ছিল আকর্ষণীয় স্থান। অনেকেই সেখানে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতেন। কিন্তু বর্তমানে ফোয়ারাটি বন্ধ থাকায় এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় চত্বরটি তার আগের সৌন্দর্য হারিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, চত্বরটির চারপাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শুভেচ্ছা ব্যানার, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রচারসামগ্রী, ধর্মীয় সভা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো রয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আড়ালে অনেকাংশেই ঢাকা পড়েছে শাপলা চত্বরের মূল স্থাপনা।

স্থানীয়দের মতে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও নান্দনিক এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর কারণে চত্বরটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের পরিচিত এই স্থাপনাটির স্বাভাবিক দৃশ্যও আড়ালে চলে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর বিষয়ে পৌরসভা কিংবা জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা রয়েছে কি না, তা নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন নাগরিক বলেন, শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে সব ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চত্বর ও এর আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো নিষিদ্ধ করে কার্যকর নির্দেশনা জারি করা উচিত।

শাপলা চত্বরের পুরোনো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। এর মধ্যে রয়েছে, চত্বর থেকে সব ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ, চত্বরের আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকাকে ব্যানার-ফেস্টুনমুক্ত ঘোষণা এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া ফোয়ারা সচল করা এবং আগের মতো আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার দাবিও উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ চত্বর শুধু অবকাঠামোগত স্থাপনা নয়, এটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচিতির অংশ। তাই খাগড়াছড়ির অন্যতম পরিচিত স্থান শাপলা চত্বরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।