১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর রেকর্ড জয়, চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 8
Print

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম পার্টি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। দেশটির নির্বাচনি ইতিহাসে আরব দলগুলোর এটিই সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি, বি'ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং রা'আম ৮টি আসন। এ ছাড়া ইসরাইল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

আগের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবার তা কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় জোটটির আসন কমেছে ১৫টি।

অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম পার্টি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগের পার্লামেন্টে দল দুটির আসন ছিল ১০টি। এবার তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে জায়োনিস্ট জোটের সদস্যরা রা'আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে আরব দলগুলোর আসন সরকার গঠনের আলোচনায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে কয়েকটি দল নির্বাচনে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের নির্ধারিত বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি পেয়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরাইল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। আর অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা চারেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কোনো ভুল বা অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ফল আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রত্যেক দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুপারিশ শুনবেন তিনি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট জালিয়াতির অভিযোগও সামনে এসেছে। কাতারের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব অভিযোগ ওঠে। তবে ব্যাপক ভোট অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ভোটে ব্যাপক অনিয়মের যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনে বলেন, তদন্তের ফল প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেও পরিচালিত হচ্ছে না।

আগামী ১০ নভেম্বর ইসরাইলের নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা জটিল হতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষের হাতে না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজন হবে। এ আলোচনা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা বলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতারা খোলা মন নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলেও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর রেকর্ড জয়, চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

Update Time : ০৯:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম পার্টি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। দেশটির নির্বাচনি ইতিহাসে আরব দলগুলোর এটিই সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি, বি'ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং রা'আম ৮টি আসন। এ ছাড়া ইসরাইল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

আগের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবার তা কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় জোটটির আসন কমেছে ১৫টি।

অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম পার্টি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগের পার্লামেন্টে দল দুটির আসন ছিল ১০টি। এবার তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে জায়োনিস্ট জোটের সদস্যরা রা'আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে আরব দলগুলোর আসন সরকার গঠনের আলোচনায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে কয়েকটি দল নির্বাচনে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের নির্ধারিত বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি পেয়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরাইল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। আর অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা চারেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কোনো ভুল বা অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ফল আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রত্যেক দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুপারিশ শুনবেন তিনি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট জালিয়াতির অভিযোগও সামনে এসেছে। কাতারের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব অভিযোগ ওঠে। তবে ব্যাপক ভোট অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ভোটে ব্যাপক অনিয়মের যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনে বলেন, তদন্তের ফল প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেও পরিচালিত হচ্ছে না।

আগামী ১০ নভেম্বর ইসরাইলের নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা জটিল হতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষের হাতে না থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজন হবে। এ আলোচনা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা বলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতারা খোলা মন নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলেও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট।