১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমির বিরোধে ভয়াবহ প্রতিশোধ! বিষ প্রয়োগে নষ্ট ৭ বিঘা জমির আমন ধান

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6
Print

নওগাঁর পত্নীতলায় জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাত বিঘা জমির আমন ধানে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও দুই চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এতে কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ধান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুই কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ অক্টোবর রাতের কোনো একসময় উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর এলাকায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মল্লিকপুর মাঠে কৃষক বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীবের সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছিল। ধানগাছে সবেমাত্র ফুল আসতে শুরু করেছিল। আর কিছুদিন পরই ধানের শিষ পরিপূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু এরই মধ্যে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা জমিতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখতে পান, ধানগাছগুলো বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে মুহূর্তেই তাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম ও ফসল ঘিরে দেখা স্বপ্ন ভেঙে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর আলম জানান, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরেই রাতের আঁধারে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভুক্তভোগী জমির মালিক আবু আহসান হাবীব অভিযোগ করে বলেন, তিনি জমিটি তার চাচা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে কিনেছিলেন। জমি কেনার পর কিছুদিন তার চাচা বর্গাচাষি হিসেবে সেখানে চাষাবাদ করতেন। পরবর্তীতে তারা নিজেরা জমি চাষ শুরু করলে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধানে ফুল আসার সময় তার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান পলাশ, চাচা আব্দুর রাজ্জাক এবং আরেক চাচাতো ভাই ইয়াছির আরাফাত শ্যামল অজ্ঞাত কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেন। এতে পুরো ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

অপর ভুক্তভোগী কৃষক বেলাল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলাশ পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে মিলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন বেলাল। তার অভিযোগ, এর আগেও একই জমিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। প্রায় সাত বিঘা জমিতে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়টি দেখা গেছে। এতে কৃষক মো. বেলাল হোসেন ও আবু আহসান হাবীবের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন তারা। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফসলের মাঠে কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের এমন পরিণতিতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এখন ভুক্তভোগী কৃষকদের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

জমির বিরোধে ভয়াবহ প্রতিশোধ! বিষ প্রয়োগে নষ্ট ৭ বিঘা জমির আমন ধান

Update Time : ০৯:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

নওগাঁর পত্নীতলায় জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাত বিঘা জমির আমন ধানে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও দুই চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এতে কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ধান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুই কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ অক্টোবর রাতের কোনো একসময় উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর এলাকায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মল্লিকপুর মাঠে কৃষক বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীবের সাত বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছিল। ধানগাছে সবেমাত্র ফুল আসতে শুরু করেছিল। আর কিছুদিন পরই ধানের শিষ পরিপূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু এরই মধ্যে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা জমিতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখতে পান, ধানগাছগুলো বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে মুহূর্তেই তাদের কয়েক মাসের পরিশ্রম ও ফসল ঘিরে দেখা স্বপ্ন ভেঙে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর আলম জানান, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরেই রাতের আঁধারে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভুক্তভোগী জমির মালিক আবু আহসান হাবীব অভিযোগ করে বলেন, তিনি জমিটি তার চাচা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে কিনেছিলেন। জমি কেনার পর কিছুদিন তার চাচা বর্গাচাষি হিসেবে সেখানে চাষাবাদ করতেন। পরবর্তীতে তারা নিজেরা জমি চাষ শুরু করলে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধানে ফুল আসার সময় তার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান পলাশ, চাচা আব্দুর রাজ্জাক এবং আরেক চাচাতো ভাই ইয়াছির আরাফাত শ্যামল অজ্ঞাত কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেন। এতে পুরো ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

অপর ভুক্তভোগী কৃষক বেলাল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলাশ পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে মিলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন বেলাল। তার অভিযোগ, এর আগেও একই জমিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। প্রায় সাত বিঘা জমিতে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়টি দেখা গেছে। এতে কৃষক মো. বেলাল হোসেন ও আবু আহসান হাবীবের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন তারা। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফসলের মাঠে কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের এমন পরিণতিতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এখন ভুক্তভোগী কৃষকদের প্রত্যাশা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।