গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের
- Update Time : ০৮:১৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 5

সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই তরুণ আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া আবাসিক এলাকা থেকে শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তাঁর বাবার নাম শাহ রুখ রাজা চৌধুরী। চলতি বছর তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
প্রিন্সের পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় নেওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লেও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে পাওয়া যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সিলেটে নিয়ে যান। প্রথমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে সুবিদবাজারের কুইন্স প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রিন্সের বাবা শাহ রুখ রাজা চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপপরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ তাঁকে জানায়, ছেলেকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখের সঙ্গে দেখা করানো হবে। পরে রাত দেড়টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, থানায় নেওয়ার পর প্রিন্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তবে কী কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে পরিবারের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গ্রেপ্তারের আগে প্রিন্সের সঙ্গে পুলিশের কথোপকথন শোনা যায়। ভিডিওতে প্রিন্সকে বলতে শোনা যায়, কয়েক দিন পর তিনি আত্মসমর্পণ করবেন। জবাবে এক পুলিশ সদস্য তাঁকে বোকামির মতো কথা না বলতে বলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে নিজের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন প্রিন্স। তবে ভিডিওটির সময়, স্থান ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রিন্সের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল এবং আগে থেকেই খিঁচুনির সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে পুলিশি তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলেও জানান ওসি।
প্রিন্সের বাবা দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর আগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগার থেকেই তাঁকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্ত ছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তবে প্রিন্সের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এবং পুলিশি হেফাজতে কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।





















