১২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড, চলছে নিবন্ধন

Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17
Print

দেশের কৃষকদের নিবন্ধন, কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান এবং পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং কার্ড বিতরণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন।

এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এ সহায়তার আওতায় ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন এবং অন্য ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এর আগে কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করতে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এ পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। মোট বিতরণ করা হয় ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, কৃষক কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সচিব আরও জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়ার তথ্য ও বালাইনাশক বিষয়ে পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে পার্টনার প্রকল্প। প্রকল্পটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বাসসকে বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের কাজ চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

আগামী চার বছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে। সূত্র:বাসস

Please Share This Post in Your Social Media

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড, চলছে নিবন্ধন

Update Time : ১১:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Print

দেশের কৃষকদের নিবন্ধন, কৃষি উপকরণ সহায়তা প্রদান এবং পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং কার্ড বিতরণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন।

এ পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এ সহায়তার আওতায় ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ১৫৩ জন এবং অন্য ৫৫ জেলার ৯২ হাজার ৮৯৪ জন কৃষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এর আগে কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করতে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এ পর্যায়ে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। মোট বিতরণ করা হয় ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, কৃষক কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সচিব আরও জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়ার তথ্য ও বালাইনাশক বিষয়ে পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে।

কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে পার্টনার প্রকল্প। প্রকল্পটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বাসসকে বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের কাজ চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

আগামী চার বছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে। সূত্র:বাসস