ইসরায়েলের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ
- Update Time : ১১:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 12

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত কারচুপির অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের মতো কোনো ভিত্তি খুঁজে পায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হাইয়োমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব জনগোষ্ঠীর বসবাস করা এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে লিকুদ পার্টি। তবে পুলিশ ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ মেলেনি।
বুধবার লিকুদ পার্টি অভিযোগ করে, আরব দলগুলো সমন্বিতভাবে ঘুষ, ভোটারদের ভয় দেখানো, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটার সংগঠিত করতে নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহার করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে বলেও দাবি করে দলটি।
লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব রাজনৈতিক দলগুলো সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয় এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নস্যাৎ করতে চায়। এসব অভিযোগের পক্ষে ‘শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ’ রয়েছে দাবি করে সেগুলো পুলিশ, নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে জমা দেওয়ার কথা জানায় দলটি।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি লিকুদ পার্টির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। জমা পড়া নথিগুলো সেই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিটি জানিয়েছিল, ভোট গণনায় পরিকল্পিত বা পদ্ধতিগত কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অনিয়মের অভিযোগে জমা পড়া পৃথক আবেদনগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টির সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যে লিকুদ পার্টির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই আসনসংখ্যা কার্যকর হলে আরব দলগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৮টিতে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো শিবিরই নিশ্চিত করতে পারেনি।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তখনো ভোট গণনা শেষ হয়নি। সেনাবাহিনীতে কর্মরত সদস্য, বিদেশে থাকা কূটনীতিক এবং নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভোটসহ কয়েক লাখ ‘দ্বৈত খামের’ ব্যালট গণনা বাকি ছিল। এসব ভোট গণনার পর চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হওয়ার কথা।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড























