০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কা, ওয়াশিংটনকে রাশিয়ার সতর্কবার্তা

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4
Print

ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে মস্কো বলেছে, হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির মাধ্যমে ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প দুর্বল করা যাবে না। নতুন হামলার হুমকি দেওয়া পক্ষগুলোকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এসব কথা বলেন। ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনার খবর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি মস্কোর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

জাখারোভা বলেন, ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকটের সঙ্গে তা জড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানি জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইচ্ছা দমন করা সম্ভব নয়। যারা নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

সংঘাত নিরসনে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রুশ এই মুখপাত্র। তিনি জানান, সংকটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত মস্কো। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় রাশিয়া সহায়তা দিতে চায়।

এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাখারোভা। তাঁর মতে, এ জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে।

জাখারোভা বলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদে ও বাধাহীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ সব দেশের জন্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইরানের বৈধ স্বার্থের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধের মুখে রয়েছে ইরান।

রাশিয়ার এই সতর্কবার্তার মধ্যেই ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর আকাশে উড়োজাহাজও দেখা গেছে। পরে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সীমিত হামলার খবর প্রকাশিত হয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এসব হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সামরিক হামলার খবর ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: আনাদোলু,

Please Share This Post in Your Social Media

ইরানে নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কা, ওয়াশিংটনকে রাশিয়ার সতর্কবার্তা

Update Time : ০৫:৪৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Print

ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে মস্কো বলেছে, হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির মাধ্যমে ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প দুর্বল করা যাবে না। নতুন হামলার হুমকি দেওয়া পক্ষগুলোকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এসব কথা বলেন। ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনার খবর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি মস্কোর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

জাখারোভা বলেন, ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকটের সঙ্গে তা জড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানি জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইচ্ছা দমন করা সম্ভব নয়। যারা নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

সংঘাত নিরসনে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রুশ এই মুখপাত্র। তিনি জানান, সংকটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত মস্কো। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় রাশিয়া সহায়তা দিতে চায়।

এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাখারোভা। তাঁর মতে, এ জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ স্বার্থের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে।

জাখারোভা বলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদে ও বাধাহীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ সব দেশের জন্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইরানের বৈধ স্বার্থের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধের মুখে রয়েছে ইরান।

রাশিয়ার এই সতর্কবার্তার মধ্যেই ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর আকাশে উড়োজাহাজও দেখা গেছে। পরে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সীমিত হামলার খবর প্রকাশিত হয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এসব হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন পক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সামরিক হামলার খবর ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: আনাদোলু,