০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তাহসিফের বন্ধু দীপ

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 11
Print

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে তুরাগ নদের পাড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর রাতভর তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার সময় তাঁরা তুরাগ নদের পাড়ে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। তখন তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে যান।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই। দুটি স্থানই তুরাগ নদের সঙ্গে সংযুক্ত।

পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট আরেক পুলিশ সুপার জানান, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকেও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। এদিকে তাহসিফের ভবনের এক দারোয়ান জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে দীপের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। তবে রাত আড়াইটার দিকে দীপ একাই বাসায় ফেরেন। সে সময় তাহসিফ তাঁর সঙ্গে ছিলেন না বলে দাবি করেন ওই দারোয়ান।

দারোয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় ফেরার পর দীপের আচরণেও কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছিলেন তিনি। তবে দারোয়ানের এই বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পাওয়ার পর বাসা থেকে বের হন তাঁর ছেলে। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মুঠোফোনে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে তাহসিফ জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি ফিরছেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর বাসার নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও হাত মেলানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। পরে তাঁরা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তাঁরা ওয়ার্কশপে যান। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর বাসায় ফিরে খাবার খান। এরপর সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেছিলেন দীপ।

২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের আশঙ্কা, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তাহসিফের বন্ধু দীপ

Update Time : ০৩:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে তুরাগ নদের পাড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর রাতভর তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার সময় তাঁরা তুরাগ নদের পাড়ে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। তখন তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে যান।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই। দুটি স্থানই তুরাগ নদের সঙ্গে সংযুক্ত।

পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট আরেক পুলিশ সুপার জানান, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকেও বাসা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। এদিকে তাহসিফের ভবনের এক দারোয়ান জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে দীপের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। তবে রাত আড়াইটার দিকে দীপ একাই বাসায় ফেরেন। সে সময় তাহসিফ তাঁর সঙ্গে ছিলেন না বলে দাবি করেন ওই দারোয়ান।

দারোয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় ফেরার পর দীপের আচরণেও কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছিলেন তিনি। তবে দারোয়ানের এই বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পাওয়ার পর বাসা থেকে বের হন তাঁর ছেলে। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের মুঠোফোনে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে তাহসিফ জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি ফিরছেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর বাসার নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও হাত মেলানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ও হাত মেলাতে দেখা যায়। পরে তাঁরা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তাঁরা ওয়ার্কশপে যান। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর বাসায় ফিরে খাবার খান। এরপর সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেছিলেন দীপ।

২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের আশঙ্কা, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।