১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজার পাস-কাণ্ডে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
Print

ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো ও বিশেষ প্রবেশপাস বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাইরে বের হলে তাঁকে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো আয়োজন ও বিশেষ প্রবেশপাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনও সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপে প্রিভিউ শো দেখার জন্য বিশেষ পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এসব পাসের প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সংগঠনটিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে ইউনেস্কোর সঙ্গে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলার সূত্রপাত। অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম ও অর্থের লেনদেন খতিয়ে দেখতে ইডিও পৃথক তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। বুধবার তিনি ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যান।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিশেষ প্রবেশপাস বিক্রির মাধ্যমে কয়েক কোটি রুপির আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। ইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপির লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

ইন্দ্রনীল সেন পশ্চিমবঙ্গের আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সংগীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ও সংগঠনটির অন্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

দুর্গাপূজার পাস-কাণ্ডে গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

Update Time : ১০:২৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Print

ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো ও বিশেষ প্রবেশপাস বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাইরে বের হলে তাঁকে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো আয়োজন ও বিশেষ প্রবেশপাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনও সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপে প্রিভিউ শো দেখার জন্য বিশেষ পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এসব পাসের প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সংগঠনটিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে ইউনেস্কোর সঙ্গে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার বউবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ মামলার সূত্রপাত। অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম ও অর্থের লেনদেন খতিয়ে দেখতে ইডিও পৃথক তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তাঁকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। বুধবার তিনি ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যান।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিশেষ প্রবেশপাস বিক্রির মাধ্যমে কয়েক কোটি রুপির আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। ইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপির লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

ইন্দ্রনীল সেন পশ্চিমবঙ্গের আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সংগীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিত। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ও সংগঠনটির অন্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।