নিজের টাকায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ, চার গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমালেন বিএনপি নেতা
- Update Time : ০৮:৩০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 5

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বোরখাড়া-কুরেরপাড় খালের ওপর ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন বড়দল উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম। এতে স্থানীয় চারটি গ্রামের হাজারো মানুষের খাল পারাপারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ সাময়িকভাবে লাঘব হয়েছে। তবে এই সমস্যার টেকসই সমাধানে খালের ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার বোরখাড়া, চরগাঁও, রামেশ্বরপুর ও হলহলিয়া গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে কুরেরপাড় খাল পার হয়ে পার্শ্ববর্তী বাদাঘাট ও কাউকান্দি বাজারে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালটিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় পারাপারে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এতদিন নৌকায় পারাপার করতে গিয়ে একদিকে সময় নষ্ট হতো, অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তি বাড়ত কয়েক গুণ।
এলাকাবাসীর এমন ভোগান্তির চিত্র নজরে এলে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন বড়দল উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম। তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাঁশ ও বাঁশের চাটাই ব্যবহার করে খালের ওপর একটি সাঁকো তৈরি করে দেন। এর ফলে বর্তমানে সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়েছে।
বড়দল উত্তর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম নিজের অর্থায়নে এই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। মূলত স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও চলাচলের সুবিধার কথা চিন্তা করেই তিনি এ প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পৈলনপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর উদ্দীন জানান, সাঁকো না থাকায় এই খালের পারাপার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও ভোগান্তি ছিল। শফিকুল ইসলামের উদ্যোগে মানুষের দুর্ভোগ আপাতত কমেছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; এখানে একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে চারটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির চিরস্থায়ী সমাধান হতো।
উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বোরখাড়া, চরগাঁও ও রামেশ্বরপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত সমস্যায় ভুগছিলেন। বর্ষাকালে স্বাভাবিক চলাফেরা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ত। নৌকায় পারাপারে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত কষ্ট পোহাতে হতো। তাই মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।’
সাঁকোটির কারণে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাঁশের সাঁকো কেবল সাময়িক সমাধান মাত্র। ঝুঁকিহীন ও স্থায়ী যোগাযোগের জন্য কুরেরপাড় খালে একটি আধুনিক পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।





















