০৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নেতানিয়াহু, জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 12
Print

ইসরাইলের ক্ষমতায় আবারও থাকার লক্ষ্য নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিরোধী শিবিরের নেতারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে বৈঠকে বসছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় বিরোধী জোটের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ ও সরকার গঠনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। আইজেনকটকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার পর এটিই তাঁদের প্রথম যৌথ বৈঠক।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ব্লক পেয়েছে ৪৮টি আসন। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। এ নির্বাচনে আরব-প্রধান দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, নির্বাচনে ইহুদি ভোটারদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে তাঁর দল লিকুদ। বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব তাঁরই পাওয়া উচিত।

লিকুদ পার্টির এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁরা বর্তমান রাজনৈতিক অংশীদারদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চান। তবে আরব-প্রধান দলগুলোর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইসরাইলের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

তবে আরব দলগুলোর নেতারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন। যদিও তাঁরা সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। আরব দলগুলোর মধ্যে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নেও মতপার্থক্য রয়েছে। নির্বাচনের আগে আরব-প্রধান দুটি তালিকার নেতারা বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন।

বিরোধী শিবিরে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ

আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাঁকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও তাঁকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তাদের সমর্থন কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতবিরোধ রয়েছে।

বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর বিরোধিতা করছেন। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী দল টুগেদার পার্টির অবস্থানও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ইসরাইলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কোন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে দলগুলোর সুপারিশ ও সমর্থনের হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তাঁর হাতে সাত দিন সময় রয়েছে। এরপর মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব।

প্রথম প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীকেও ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হবে। এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের অন্তত ৬১ জন সদস্য তৃতীয় কোনো প্রার্থী মনোনয়নের জন্য প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমন অনুরোধ না এলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নেতানিয়াহু, জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান

Update Time : ০৫:৪২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Print

ইসরাইলের ক্ষমতায় আবারও থাকার লক্ষ্য নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিরোধী শিবিরের নেতারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে বৈঠকে বসছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় বিরোধী জোটের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ ও সরকার গঠনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। আইজেনকটকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার পর এটিই তাঁদের প্রথম যৌথ বৈঠক।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ব্লক পেয়েছে ৪৮টি আসন। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। এ নির্বাচনে আরব-প্রধান দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, নির্বাচনে ইহুদি ভোটারদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে তাঁর দল লিকুদ। বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব তাঁরই পাওয়া উচিত।

লিকুদ পার্টির এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁরা বর্তমান রাজনৈতিক অংশীদারদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চান। তবে আরব-প্রধান দলগুলোর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইসরাইলের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

তবে আরব দলগুলোর নেতারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন। যদিও তাঁরা সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। আরব দলগুলোর মধ্যে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নেও মতপার্থক্য রয়েছে। নির্বাচনের আগে আরব-প্রধান দুটি তালিকার নেতারা বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন।

বিরোধী শিবিরে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতভেদ

আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সব নেতাই তাঁকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরব দলগুলোও তাঁকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তাদের সমর্থন কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতবিরোধ রয়েছে।

বামঘেঁষা ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থী ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর বিরোধিতা করছেন। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী দল টুগেদার পার্টির অবস্থানও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

ইসরাইলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কোন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে দলগুলোর সুপারিশ ও সমর্থনের হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তাঁর হাতে সাত দিন সময় রয়েছে। এরপর মনোনীত প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব।

প্রথম প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীকেও ২৮ দিনের মধ্যে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে হবে। এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের অন্তত ৬১ জন সদস্য তৃতীয় কোনো প্রার্থী মনোনয়নের জন্য প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমন অনুরোধ না এলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।

সূত্র: আল জাজিরা