১১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু, দাম কত ও কোথা থেকে কিনবেন?

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7
Print

বাংলাদেশের নগর পরিবহনে ব্যাটারিচালিত রিকশা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করলেও এসব যানবাহনের নিরাপত্তা, গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং ব্যবস্থা ও মানসম্মত কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই সমস্যা কমাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের নকশায় তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের স্বল্পগতির ই-রিকশা। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় চালুর পর যানটি নিয়ে চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় বুয়েটের নকশার এই ই-রিকশায় উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা, শক্ত কাঠামো, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, নির্দিষ্ট গতিসীমা, হেডলাইট, ইন্ডিকেটর ও রিয়ার ভিউ মিররের মতো নিরাপত্তা সুবিধা রাখা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো ব্যাটারিচালিত রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট কারিগরি মানের মধ্যে আনা এবং নগরের সড়কে চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত করা।

অনেকের প্রশ্ন, বুয়েটের তৈরি ই-রিকশার নাম কী, দাম কত, কোথায় পাওয়া যাবে এবং সাধারণ চালক বা উদ্যোক্তারা এটি কিনতে পারবেন কি না। ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ই-রিকশাটির কোনো একক বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এর দাম প্রায় ২ লাখ টাকা বলা হলেও এটি সব প্রস্তুতকারকের জন্য সরকারি নির্ধারিত একক বিক্রয়মূল্য নয়। কেনার আগে প্রস্তুতকারক, ব্যাটারি, ওয়ারেন্টি এবং নতুন বিধিমালার অধীনে নিবন্ধনের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা কেন তৈরি করা হয়েছে?

বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অনেকগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে সব গাড়ির ব্রেক, চ্যাসিস, ব্যাটারি, মোটর, আলো ও গতি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একই মানের নয়।

বিশেষ করে দ্রুতগতিতে চলা ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, দুর্বল ব্রেক, ভারসাম্যহীন কাঠামো এবং চালকের সীমিত দৃশ্যমানতার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। এ ছাড়া অনেক গাড়িতে প্রয়োজনীয় ইন্ডিকেটর, রিয়ার ভিউ মিরর কিংবা কার্যকর হেডলাইট থাকে না।

এসব সমস্যা বিবেচনায় বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একটি গবেষক দল নতুন নকশার রিকশা তৈরি করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এ নকশা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গবেষক দলের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি যান তৈরি করা, যা প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং নগরের স্বল্পগতির পরিবহনের উপযোগী।

পরবর্তী সময়ে সরকার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন নকশার ই-রিকশা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কার্যক্রম নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার আফতাবনগরে পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একই সময় ঢাকার আরও কিছু নির্ধারিত এলাকায় এ ধরনের ই-রিকশা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুয়েটের ই-রিকশার নাম কী?

বুয়েটের নকশায় তৈরি যানটি সাধারণভাবে ‘বুয়েট ডিজাইন ই-রিকশা’ বা ‘BUET-designed E-Rickshaw’ নামে পরিচিত। তবে এটি কোনো একক বাণিজ্যিক কোম্পানির ব্র্যান্ড নাম নয়। বুয়েটের প্রকৌশলীদের তৈরি নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যানটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারে।

তাই বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের পণ্যের নাম বা ব্র্যান্ড ব্যবহার করলেও সেটিকে সরাসরি বুয়েটের নিজস্ব কোম্পানির তৈরি গাড়ি মনে করা ঠিক হবে না। একইভাবে কোনো বিক্রেতা ‘বুয়েট অনুমোদিত’ বা ‘বুয়েট স্ট্যান্ডার্ড’ বললেই গাড়িটি সরকারি নিবন্ধনের উপযোগী—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

ক্রেতার উচিত প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নেওয়া, গাড়িটি বুয়েটের নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মান পূরণ করে কি না এবং প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করা সম্ভব হবে কি না।

বুয়েটের ই-রিকশার দাম কত?

বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশার দাম নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের বরাতে এই দাম উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে গাড়ি কেনার সুযোগের কথাও বলা হয়।

তবে ২ লাখ টাকা কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত একক বিক্রয়মূল্য নয়। প্রস্তুতকারক, ব্যাটারির ধরন, মোটর, যন্ত্রাংশ, আসনসংখ্যা, ওয়ারেন্টি ও অন্যান্য সুবিধার ওপর প্রকৃত দাম কমবেশি হতে পারে। তাই ক্রেতার উচিত একাধিক বিক্রেতার কাছ থেকে লিখিত মূল্যতালিকা সংগ্রহ করা।

দাম যাচাইয়ের সময় শুধু গাড়ির মূল মূল্য নয়, ব্যাটারির মূল্য, চার্জার, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, পরিবহন খরচ এবং নিবন্ধন ও ফিটনেসের খরচও হিসাব করতে হবে। নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ও ফিটনেসের জন্য আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গাড়ি কেনার বাজেট তৈরির সময় এসব খরচও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বুয়েটের ই-রিকশা কোথা থেকে কিনবেন?

বুয়েটের নকশার ই-রিকশা উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে গাড়ি কেনার কথা বলা হয়েছিল। সেখানে গুডহোপ মোটরসের নামও উল্লেখ করা হয়।

তবে সব প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ শোরুমের ঠিকানা, বিক্রয়কেন্দ্র, ফোন নম্বর এবং বর্তমান মজুতের নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যায়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনো ডিলারের কাছে গাড়ি আছে বা সারা দেশে বিক্রি হচ্ছে—এমন দাবি করার আগে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুয়েটের নকশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুডহোপ মোটরসের নাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া বুয়েটের গবেষক দল বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুমোদিত উৎপাদক বা সব এলাকায় বিক্রির একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।

গাড়ি কেনার আগে বিক্রেতাকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন। গাড়িটি কোন কারিগরি নকশা অনুসরণ করে তৈরি, বুয়েটের নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণের প্রমাণ কী, কোন সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করা যাবে, ফিটনেস সনদ পেতে কী কী নথি লাগবে এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা কোথায় পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে লিখিত তথ্য নিন।

বুয়েটের ই-রিকশার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় বুয়েটের নকশার ই-রিকশায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত কারিগরি বিবরণ অনুযায়ী, এতে একাধিক আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

ই-রিকশাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তিন চাকায় ডিস্ক ব্রেক। প্রচলিত অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্রেকিং ব্যবস্থা সীমিত থাকে। নতুন নকশায় তিন চাকায় ব্রেক ব্যবস্থার পাশাপাশি হাইড্রোলিক ব্রেকিং প্রযুক্তি রাখা হয়েছে। এর ফলে চালক প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করে থামাতে পারেন।

এতে পার্কিং ব্রেক বা হ্যান্ড ব্রেকও রয়েছে। ঢালু স্থানে গাড়ি দাঁড় করালে সেটি যেন নিজে থেকে গড়িয়ে না যায়, সে জন্য এই ব্যবস্থা সহায়ক।

গাড়ির চ্যাসিস বা কাঠামো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে চলাচলের সময় ভারসাম্য বজায় থাকে। এর সঙ্গে সাসপেনশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যা অসমান রাস্তায় চলাচলের সময় ঝাঁকুনি কমাতে সহায়তা করে।

চালকের সামনে কাঁচের উইন্ডশিল্ড এবং যাত্রীদের জন্য ছাউনি রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টি, ধুলাবালি ও বাতাস থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। পাশাপাশি দুই পাশে রিয়ার ভিউ মিরর, হেডলাইট, হর্ন ও টার্ন ইন্ডিকেটর রয়েছে।

ই-রিকশাটিতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের কথা প্রকাশিত কারিগরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচলিত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম ব্যাটারি সাধারণত ওজনে হালকা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে ব্যাটারির প্রকৃত আয়ুষ্কাল নির্ভর করে ব্যবহার, চার্জিং পদ্ধতি, তাপমাত্রা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

এ ছাড়া গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পিড লিমিটার এবং ব্যাটারির চার্জ ও গতি দেখার জন্য ডিজিটাল মিটার রয়েছে। এসব সুবিধার উদ্দেশ্য হলো চালককে গাড়ির অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত গতি কমানো।

এক চার্জে কত কিলোমিটার চলবে?

প্রকাশিত কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, বুয়েটের নকশার ই-রিকশার এক চার্জে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি পরীক্ষামূলক বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাওয়া পরিসর হতে পারে। বাস্তবে যাত্রীর ওজন, রাস্তার অবস্থা, গতি, ব্যাটারির বয়স, তাপমাত্রা এবং চালানোর ধরন অনুযায়ী দূরত্ব কমবেশি হতে পারে।

কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, চার্জ হতে কত সময় লাগে, এক চার্জে বাস্তবে কত দূরত্ব চলতে পারে এবং ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কত দিনের—এসব তথ্য লিখিতভাবে নেওয়া উচিত। শুধু বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা দূরত্বের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

বুয়েটের ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি কত?

প্রকাশিত কারিগরি বিবরণে গাড়িটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নতুন ই-রিকশা চলাচল বিধিমালায় সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও জনাকীর্ণ এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চালানো যাবে না। অর্থাৎ গাড়ির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যা-ই হোক, চলাচলের ক্ষেত্রে কার্যকর বিধিমালায় নির্ধারিত গতিসীমা মানতে হবে।

২০২৬ সালের নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের নিয়ম কী?

২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই বিধিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রযোজ্য। এর ফলে ই-রিকশা চলাচলে নিবন্ধন, ফিটনেস, নির্ধারিত রুট, জোন, গতি ও চার্জিংয়ের বিষয়ে নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী বহনের উপযোগী ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনের উপযোগী ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। নিবন্ধন নবায়নের ফি যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য নির্ধারিত ফি ১ হাজার টাকা।

নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। গাড়িকে বুয়েটের নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদ এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধির প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। কাগজপত্র ও কারিগরি শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে।

নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর। নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য আলাদা নম্বর, কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট এবং ব্লু বুক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে যে সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন নেওয়া হবে, অন্য সিটি করপোরেশনে সেই গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

কোথায় চলবে বুয়েটের ই-রিকশা?

ই-রিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট ও জোন নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক বিভাগ। একটি জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে, গাড়ির রং কী হবে এবং কোন সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকবে—এসব বিষয়ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস রুট, বিআরটি করিডর এবং ফুটপাতসহ নির্ধারিত নিষিদ্ধ সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। গাড়ি সড়কের বাম পাশ দিয়ে চালাতে হবে। অবৈধভাবে ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া পাইলট কর্মসূচির আওতায় ঢাকার আফতাবনগর, রামপুরা-সংযোগ সড়ক এবং ধানমন্ডি-জিগাতলা এলাকার কিছু নির্ধারিত রুটে ই-রিকশা চালুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পাইলট কর্মসূচির রুট এবং নতুন বিধিমালার অধীনে ভবিষ্যতের অনুমোদিত রুট এক বিষয় নয়। তাই কোনো এলাকায় গাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত জোন ও রুট নিশ্চিত করতে হবে।

ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ কোথায় দেবেন?

নতুন বিধিমালায় ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্ধারিত গ্যারেজে।

অর্থাৎ যেকোনো জায়গায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জিংয়ের ব্যবস্থা করা যাবে না। চার্জিং স্টেশন স্থাপন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময়কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন বিধিমালায় চার্জিং অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়েও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফলে ই-রিকশা কেনার আগে নিজের এলাকায় অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট আছে কি না, সেটি জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বুয়েটের ই-রিকশা কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

ই-রিকশা কেনা একটি বড় বিনিয়োগ। তাই শুধু গাড়ির বাহ্যিক নকশা বা বিক্রেতার বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রথমে গাড়ির প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করুন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ঠিকানা, বিক্রয়-পরবর্তী সেবা এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানুন।

এরপর গাড়ির কারিগরি নথি পরীক্ষা করুন। বুয়েটের নির্ধারিত নকশা ও নিরাপত্তা মানের সঙ্গে গাড়িটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন। শুধু ‘বুয়েট মডেল’ বা ‘বুয়েট স্ট্যান্ডার্ড’ লেখা স্টিকার থাকলেই সেটিকে সরকারি নিবন্ধনের যোগ্য বলে ধরে নেবেন না।

ব্যাটারির ব্র্যান্ড, ধারণক্ষমতা, ওয়ারেন্টি, চার্জারের মান এবং মোটরের বিবরণ যাচাই করুন। ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ কত হতে পারে, সেটিও আগে জেনে নিন।

সবশেষে, গাড়িটি আপনার এলাকার সিটি করপোরেশনে নিবন্ধনযোগ্য কি না এবং নির্ধারিত রুটে চালানো যাবে কি না, তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও ফিটনেসের শর্ত পূরণ না হলে গাড়ি কিনেও বাণিজ্যিকভাবে চালাতে সমস্যা হতে পারে।

বুয়েটের ই-রিকশা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: বুয়েটের ই-রিকশার দাম কত?

উত্তর: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ টাকা বলা হয়েছিল। তবে এটি সরকারি নির্ধারিত একক মূল্য নয়। প্রস্তুতকারক ও ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী দাম যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: বুয়েটের ই-রিকশার অফিসিয়াল নাম কী?

উত্তর: এটি সাধারণভাবে বুয়েট ডিজাইন ই-রিকশা বা BUET-designed E-Rickshaw নামে পরিচিত। এটি কোনো একক বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নয়; বুয়েটের নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করে উৎপাদনের ধারণা।

প্রশ্ন: কোথা থেকে বুয়েটের ই-রিকশা কিনতে পারবেন?

উত্তর: প্রকাশিত প্রতিবেদনে গুডহোপ মোটরসসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শোরুমের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কেনার আগে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বিক্রয়কেন্দ্র, গাড়ির মজুত ও নিবন্ধনযোগ্যতা সরাসরি যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: এক চার্জে কত কিলোমিটার চলবে?

উত্তর: প্রকাশিত কারিগরি তথ্যে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার চলার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে ব্যাটারি, যাত্রীর ওজন ও রাস্তার অবস্থার ওপর দূরত্ব নির্ভর করবে।

প্রশ্ন: বুয়েটের ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি কত?

উত্তর: নকশাগত বিবরণে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতির কথা বলা হয়েছে। তবে নতুন ২০২৬ বিধিমালায় চলাচলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার এবং নির্দিষ্ট সংবেদনশীল এলাকায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: একটি এনআইডি দিয়ে কয়টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে?

উত্তর: ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে নিবন্ধিত সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিকভাবে গাড়ি চালানো যাবে না।

প্রশ্ন: ই-রিকশা নিবন্ধনের ফি কত?

উত্তর: দুই যাত্রী বহনের উপযোগী গাড়ির এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনের উপযোগী গাড়ির ফি ১০ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের ফি ১ হাজার টাকা। নবায়ন ফিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেষ কথা

বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশা বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা, লিথিয়াম ব্যাটারি, নির্দিষ্ট গতিসীমা, ইন্ডিকেটর ও শক্ত কাঠামোর কারণে এটি প্রচলিত অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছে।

তবে গাড়ি কেনার আগে শুধু ২ লাখ টাকার সম্ভাব্য দাম বা বুয়েটের নকশার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রস্তুতকারকের পরিচয়, কারিগরি মান, ব্যাটারি ওয়ারেন্টি, নিবন্ধনের যোগ্যতা এবং আপনার এলাকার অনুমোদিত চলাচলের রুট নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালার কারণে নিবন্ধন, ফিটনেস ও চার্জিংয়ের নিয়মও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব শর্ত যাচাই করে তবেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।

Please Share This Post in Your Social Media

বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু, দাম কত ও কোথা থেকে কিনবেন?

Update Time : ০৮:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

বাংলাদেশের নগর পরিবহনে ব্যাটারিচালিত রিকশা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করলেও এসব যানবাহনের নিরাপত্তা, গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং ব্যবস্থা ও মানসম্মত কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই সমস্যা কমাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের নকশায় তৈরি হয়েছে নতুন ধরনের স্বল্পগতির ই-রিকশা। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় চালুর পর যানটি নিয়ে চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় বুয়েটের নকশার এই ই-রিকশায় উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা, শক্ত কাঠামো, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, নির্দিষ্ট গতিসীমা, হেডলাইট, ইন্ডিকেটর ও রিয়ার ভিউ মিররের মতো নিরাপত্তা সুবিধা রাখা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো ব্যাটারিচালিত রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট কারিগরি মানের মধ্যে আনা এবং নগরের সড়কে চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত করা।

অনেকের প্রশ্ন, বুয়েটের তৈরি ই-রিকশার নাম কী, দাম কত, কোথায় পাওয়া যাবে এবং সাধারণ চালক বা উদ্যোক্তারা এটি কিনতে পারবেন কি না। ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ই-রিকশাটির কোনো একক বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এর দাম প্রায় ২ লাখ টাকা বলা হলেও এটি সব প্রস্তুতকারকের জন্য সরকারি নির্ধারিত একক বিক্রয়মূল্য নয়। কেনার আগে প্রস্তুতকারক, ব্যাটারি, ওয়ারেন্টি এবং নতুন বিধিমালার অধীনে নিবন্ধনের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা কেন তৈরি করা হয়েছে?

বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অনেকগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে সব গাড়ির ব্রেক, চ্যাসিস, ব্যাটারি, মোটর, আলো ও গতি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একই মানের নয়।

বিশেষ করে দ্রুতগতিতে চলা ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, দুর্বল ব্রেক, ভারসাম্যহীন কাঠামো এবং চালকের সীমিত দৃশ্যমানতার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। এ ছাড়া অনেক গাড়িতে প্রয়োজনীয় ইন্ডিকেটর, রিয়ার ভিউ মিরর কিংবা কার্যকর হেডলাইট থাকে না।

এসব সমস্যা বিবেচনায় বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একটি গবেষক দল নতুন নকশার রিকশা তৈরি করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এ নকশা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গবেষক দলের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি যান তৈরি করা, যা প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং নগরের স্বল্পগতির পরিবহনের উপযোগী।

পরবর্তী সময়ে সরকার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নতুন নকশার ই-রিকশা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কার্যক্রম নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার আফতাবনগরে পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একই সময় ঢাকার আরও কিছু নির্ধারিত এলাকায় এ ধরনের ই-রিকশা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুয়েটের ই-রিকশার নাম কী?

বুয়েটের নকশায় তৈরি যানটি সাধারণভাবে ‘বুয়েট ডিজাইন ই-রিকশা’ বা ‘BUET-designed E-Rickshaw’ নামে পরিচিত। তবে এটি কোনো একক বাণিজ্যিক কোম্পানির ব্র্যান্ড নাম নয়। বুয়েটের প্রকৌশলীদের তৈরি নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যানটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারে।

তাই বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের পণ্যের নাম বা ব্র্যান্ড ব্যবহার করলেও সেটিকে সরাসরি বুয়েটের নিজস্ব কোম্পানির তৈরি গাড়ি মনে করা ঠিক হবে না। একইভাবে কোনো বিক্রেতা ‘বুয়েট অনুমোদিত’ বা ‘বুয়েট স্ট্যান্ডার্ড’ বললেই গাড়িটি সরকারি নিবন্ধনের উপযোগী—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

ক্রেতার উচিত প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নেওয়া, গাড়িটি বুয়েটের নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মান পূরণ করে কি না এবং প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করা সম্ভব হবে কি না।

বুয়েটের ই-রিকশার দাম কত?

বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশার দাম নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের বরাতে এই দাম উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে গাড়ি কেনার সুযোগের কথাও বলা হয়।

তবে ২ লাখ টাকা কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত একক বিক্রয়মূল্য নয়। প্রস্তুতকারক, ব্যাটারির ধরন, মোটর, যন্ত্রাংশ, আসনসংখ্যা, ওয়ারেন্টি ও অন্যান্য সুবিধার ওপর প্রকৃত দাম কমবেশি হতে পারে। তাই ক্রেতার উচিত একাধিক বিক্রেতার কাছ থেকে লিখিত মূল্যতালিকা সংগ্রহ করা।

দাম যাচাইয়ের সময় শুধু গাড়ির মূল মূল্য নয়, ব্যাটারির মূল্য, চার্জার, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, পরিবহন খরচ এবং নিবন্ধন ও ফিটনেসের খরচও হিসাব করতে হবে। নতুন বিধিমালায় নিবন্ধন ও ফিটনেসের জন্য আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গাড়ি কেনার বাজেট তৈরির সময় এসব খরচও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বুয়েটের ই-রিকশা কোথা থেকে কিনবেন?

বুয়েটের নকশার ই-রিকশা উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে গাড়ি কেনার কথা বলা হয়েছিল। সেখানে গুডহোপ মোটরসের নামও উল্লেখ করা হয়।

তবে সব প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ শোরুমের ঠিকানা, বিক্রয়কেন্দ্র, ফোন নম্বর এবং বর্তমান মজুতের নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যায়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনো ডিলারের কাছে গাড়ি আছে বা সারা দেশে বিক্রি হচ্ছে—এমন দাবি করার আগে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুয়েটের নকশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুডহোপ মোটরসের নাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া বুয়েটের গবেষক দল বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুমোদিত উৎপাদক বা সব এলাকায় বিক্রির একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।

গাড়ি কেনার আগে বিক্রেতাকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন। গাড়িটি কোন কারিগরি নকশা অনুসরণ করে তৈরি, বুয়েটের নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণের প্রমাণ কী, কোন সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন করা যাবে, ফিটনেস সনদ পেতে কী কী নথি লাগবে এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা কোথায় পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে লিখিত তথ্য নিন।

বুয়েটের ই-রিকশার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় বুয়েটের নকশার ই-রিকশায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত কারিগরি বিবরণ অনুযায়ী, এতে একাধিক আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

ই-রিকশাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তিন চাকায় ডিস্ক ব্রেক। প্রচলিত অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্রেকিং ব্যবস্থা সীমিত থাকে। নতুন নকশায় তিন চাকায় ব্রেক ব্যবস্থার পাশাপাশি হাইড্রোলিক ব্রেকিং প্রযুক্তি রাখা হয়েছে। এর ফলে চালক প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করে থামাতে পারেন।

এতে পার্কিং ব্রেক বা হ্যান্ড ব্রেকও রয়েছে। ঢালু স্থানে গাড়ি দাঁড় করালে সেটি যেন নিজে থেকে গড়িয়ে না যায়, সে জন্য এই ব্যবস্থা সহায়ক।

গাড়ির চ্যাসিস বা কাঠামো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে চলাচলের সময় ভারসাম্য বজায় থাকে। এর সঙ্গে সাসপেনশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যা অসমান রাস্তায় চলাচলের সময় ঝাঁকুনি কমাতে সহায়তা করে।

চালকের সামনে কাঁচের উইন্ডশিল্ড এবং যাত্রীদের জন্য ছাউনি রাখা হয়েছে। এতে বৃষ্টি, ধুলাবালি ও বাতাস থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। পাশাপাশি দুই পাশে রিয়ার ভিউ মিরর, হেডলাইট, হর্ন ও টার্ন ইন্ডিকেটর রয়েছে।

ই-রিকশাটিতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের কথা প্রকাশিত কারিগরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচলিত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম ব্যাটারি সাধারণত ওজনে হালকা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে ব্যাটারির প্রকৃত আয়ুষ্কাল নির্ভর করে ব্যবহার, চার্জিং পদ্ধতি, তাপমাত্রা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

এ ছাড়া গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পিড লিমিটার এবং ব্যাটারির চার্জ ও গতি দেখার জন্য ডিজিটাল মিটার রয়েছে। এসব সুবিধার উদ্দেশ্য হলো চালককে গাড়ির অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত গতি কমানো।

এক চার্জে কত কিলোমিটার চলবে?

প্রকাশিত কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, বুয়েটের নকশার ই-রিকশার এক চার্জে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি পরীক্ষামূলক বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাওয়া পরিসর হতে পারে। বাস্তবে যাত্রীর ওজন, রাস্তার অবস্থা, গতি, ব্যাটারির বয়স, তাপমাত্রা এবং চালানোর ধরন অনুযায়ী দূরত্ব কমবেশি হতে পারে।

কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, চার্জ হতে কত সময় লাগে, এক চার্জে বাস্তবে কত দূরত্ব চলতে পারে এবং ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কত দিনের—এসব তথ্য লিখিতভাবে নেওয়া উচিত। শুধু বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা দূরত্বের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

বুয়েটের ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি কত?

প্রকাশিত কারিগরি বিবরণে গাড়িটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নতুন ই-রিকশা চলাচল বিধিমালায় সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও জনাকীর্ণ এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চালানো যাবে না। অর্থাৎ গাড়ির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যা-ই হোক, চলাচলের ক্ষেত্রে কার্যকর বিধিমালায় নির্ধারিত গতিসীমা মানতে হবে।

২০২৬ সালের নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের নিয়ম কী?

২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই বিধিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রযোজ্য। এর ফলে ই-রিকশা চলাচলে নিবন্ধন, ফিটনেস, নির্ধারিত রুট, জোন, গতি ও চার্জিংয়ের বিষয়ে নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী বহনের উপযোগী ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনের উপযোগী ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। নিবন্ধন নবায়নের ফি যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য নির্ধারিত ফি ১ হাজার টাকা।

নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। গাড়িকে বুয়েটের নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদ এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধির প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। কাগজপত্র ও কারিগরি শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে।

নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর। নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য আলাদা নম্বর, কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট এবং ব্লু বুক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে যে সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন নেওয়া হবে, অন্য সিটি করপোরেশনে সেই গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

কোথায় চলবে বুয়েটের ই-রিকশা?

ই-রিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট ও জোন নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক বিভাগ। একটি জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে, গাড়ির রং কী হবে এবং কোন সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকবে—এসব বিষয়ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস রুট, বিআরটি করিডর এবং ফুটপাতসহ নির্ধারিত নিষিদ্ধ সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। গাড়ি সড়কের বাম পাশ দিয়ে চালাতে হবে। অবৈধভাবে ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া পাইলট কর্মসূচির আওতায় ঢাকার আফতাবনগর, রামপুরা-সংযোগ সড়ক এবং ধানমন্ডি-জিগাতলা এলাকার কিছু নির্ধারিত রুটে ই-রিকশা চালুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পাইলট কর্মসূচির রুট এবং নতুন বিধিমালার অধীনে ভবিষ্যতের অনুমোদিত রুট এক বিষয় নয়। তাই কোনো এলাকায় গাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত জোন ও রুট নিশ্চিত করতে হবে।

ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ কোথায় দেবেন?

নতুন বিধিমালায় ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা যাবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্ধারিত গ্যারেজে।

অর্থাৎ যেকোনো জায়গায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জিংয়ের ব্যবস্থা করা যাবে না। চার্জিং স্টেশন স্থাপন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময়কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন বিধিমালায় চার্জিং অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়েও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফলে ই-রিকশা কেনার আগে নিজের এলাকায় অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট আছে কি না, সেটি জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বুয়েটের ই-রিকশা কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

ই-রিকশা কেনা একটি বড় বিনিয়োগ। তাই শুধু গাড়ির বাহ্যিক নকশা বা বিক্রেতার বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রথমে গাড়ির প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করুন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ঠিকানা, বিক্রয়-পরবর্তী সেবা এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবস্থা সম্পর্কে জানুন।

এরপর গাড়ির কারিগরি নথি পরীক্ষা করুন। বুয়েটের নির্ধারিত নকশা ও নিরাপত্তা মানের সঙ্গে গাড়িটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন। শুধু ‘বুয়েট মডেল’ বা ‘বুয়েট স্ট্যান্ডার্ড’ লেখা স্টিকার থাকলেই সেটিকে সরকারি নিবন্ধনের যোগ্য বলে ধরে নেবেন না।

ব্যাটারির ব্র্যান্ড, ধারণক্ষমতা, ওয়ারেন্টি, চার্জারের মান এবং মোটরের বিবরণ যাচাই করুন। ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ কত হতে পারে, সেটিও আগে জেনে নিন।

সবশেষে, গাড়িটি আপনার এলাকার সিটি করপোরেশনে নিবন্ধনযোগ্য কি না এবং নির্ধারিত রুটে চালানো যাবে কি না, তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও ফিটনেসের শর্ত পূরণ না হলে গাড়ি কিনেও বাণিজ্যিকভাবে চালাতে সমস্যা হতে পারে।

বুয়েটের ই-রিকশা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: বুয়েটের ই-রিকশার দাম কত?

উত্তর: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ টাকা বলা হয়েছিল। তবে এটি সরকারি নির্ধারিত একক মূল্য নয়। প্রস্তুতকারক ও ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী দাম যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: বুয়েটের ই-রিকশার অফিসিয়াল নাম কী?

উত্তর: এটি সাধারণভাবে বুয়েট ডিজাইন ই-রিকশা বা BUET-designed E-Rickshaw নামে পরিচিত। এটি কোনো একক বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নয়; বুয়েটের নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করে উৎপাদনের ধারণা।

প্রশ্ন: কোথা থেকে বুয়েটের ই-রিকশা কিনতে পারবেন?

উত্তর: প্রকাশিত প্রতিবেদনে গুডহোপ মোটরসসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শোরুমের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কেনার আগে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বিক্রয়কেন্দ্র, গাড়ির মজুত ও নিবন্ধনযোগ্যতা সরাসরি যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: এক চার্জে কত কিলোমিটার চলবে?

উত্তর: প্রকাশিত কারিগরি তথ্যে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার চলার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে ব্যাটারি, যাত্রীর ওজন ও রাস্তার অবস্থার ওপর দূরত্ব নির্ভর করবে।

প্রশ্ন: বুয়েটের ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি কত?

উত্তর: নকশাগত বিবরণে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতির কথা বলা হয়েছে। তবে নতুন ২০২৬ বিধিমালায় চলাচলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার এবং নির্দিষ্ট সংবেদনশীল এলাকায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: একটি এনআইডি দিয়ে কয়টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে?

উত্তর: ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে নিবন্ধিত সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিকভাবে গাড়ি চালানো যাবে না।

প্রশ্ন: ই-রিকশা নিবন্ধনের ফি কত?

উত্তর: দুই যাত্রী বহনের উপযোগী গাড়ির এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনের উপযোগী গাড়ির ফি ১০ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের ফি ১ হাজার টাকা। নবায়ন ফিও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেষ কথা

বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশা বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা, লিথিয়াম ব্যাটারি, নির্দিষ্ট গতিসীমা, ইন্ডিকেটর ও শক্ত কাঠামোর কারণে এটি প্রচলিত অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছে।

তবে গাড়ি কেনার আগে শুধু ২ লাখ টাকার সম্ভাব্য দাম বা বুয়েটের নকশার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রস্তুতকারকের পরিচয়, কারিগরি মান, ব্যাটারি ওয়ারেন্টি, নিবন্ধনের যোগ্যতা এবং আপনার এলাকার অনুমোদিত চলাচলের রুট নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালার কারণে নিবন্ধন, ফিটনেস ও চার্জিংয়ের নিয়মও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব শর্ত যাচাই করে তবেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।