০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিয়ায় আকস্মিক বন্যায় ৪ শিশুসহ নিহত ৫, নিখোঁজ আরও ৫

Reporter Name
  • Update Time : ১২:২২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
Print

সিরিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় চার শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় কয়েকটি এলাকায় সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার অভিযান ও জরুরি তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিরিয়ার জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাক্কা ও দেইর ইজ-জোর প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রাক্কা, দেইর ইজ-জোর ও আলেপ্পোর বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চলছে।

বন্যায় আটকে পড়া অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্সের দল। তাঁদের অনেকে পানির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন অথবা যানবাহন নিয়ে চলাচলের সময় বিপাকে পড়েন। দেইর ইজ-জোরে বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়া দুজনকে সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো ১৬৫টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বন্যাকবলিত শিবির থেকে ৩৭৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বন্যায় সাতটি সেতু, কালভার্ট ও মাটির রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাক্কার কাসরাত সুরুর এলাকায় একটি মাটির কালভার্ট ধসে পড়ায় শতাধিক পরিবার আটকা পড়ে। এ ছাড়া ১৫০টির বেশি বাড়িঘর ও সরকারি স্থাপনা থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে দুটি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেকারি রয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আলেপ্পো, রাক্কা, দেইর ইজ-জোর, হাসাকা, হামা, হোমস ও লাতাকিয়া প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রবল বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলপথ উপচে পড়ে। এতে রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

সিরিয়ায় আকস্মিক বন্যায় ৪ শিশুসহ নিহত ৫, নিখোঁজ আরও ৫

Update Time : ১২:২২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

সিরিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় চার শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যায় কয়েকটি এলাকায় সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার অভিযান ও জরুরি তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিরিয়ার জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাক্কা ও দেইর ইজ-জোর প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া রাক্কা, দেইর ইজ-জোর ও আলেপ্পোর বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চলছে।

বন্যায় আটকে পড়া অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্সের দল। তাঁদের অনেকে পানির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন অথবা যানবাহন নিয়ে চলাচলের সময় বিপাকে পড়েন। দেইর ইজ-জোরে বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়া দুজনকে সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো ১৬৫টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বন্যাকবলিত শিবির থেকে ৩৭৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বন্যায় সাতটি সেতু, কালভার্ট ও মাটির রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাক্কার কাসরাত সুরুর এলাকায় একটি মাটির কালভার্ট ধসে পড়ায় শতাধিক পরিবার আটকা পড়ে। এ ছাড়া ১৫০টির বেশি বাড়িঘর ও সরকারি স্থাপনা থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে দুটি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেকারি রয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আলেপ্পো, রাক্কা, দেইর ইজ-জোর, হাসাকা, হামা, হোমস ও লাতাকিয়া প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রবল বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলপথ উপচে পড়ে। এতে রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।