অটোরিকশার নিবন্ধন আবেদন বাতিল হতে পারে যেসব কারণে
- Update Time : ০২:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 6

ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেই মিলবে না অনুমোদন। আবেদনকারীর বয়স, নাগরিকত্ব, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ই-রিকশার প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যাচাই করে নিবন্ধন দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তবে আবেদন নামঞ্জুরের কারণ আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি আপিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর ৪ নম্বর বিধিতে নিবন্ধনের যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, যাচাই-বাছাই এবং আবেদন নামঞ্জুরের নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালাটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং কোনো উপযুক্ত আদালত তাঁকে দেউলিয়া ঘোষণা করে থাকতে পারবে না। এসব যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সাম্প্রতিক দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী ফিটনেস সার্টিফিকেট।
আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে কিংবা যাচাইয়ের সময় জমা দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র গ্রহণযোগ্য না হলে নিবন্ধন পাওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ই-রিকশার প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যও যাচাই করা হবে।
বিধিমালার ৪ নম্বর বিধি অনুযায়ী, আবেদন ও জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত ই-রিকশার প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ফলে ই-রিকশা নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তার মান পূরণ না করলে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না।
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে আবেদন নামঞ্জুর করতে পারবে। তবে আবেদন বাতিলের কারণ আবেদনকারীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। অর্থাৎ শুধু আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেই হবে না, কেন নিবন্ধন দেওয়া হয়নি, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও বাধ্যতামূলক।
আবেদন বাতিল হলে প্রতিকারের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিধিমালার ৪ নম্বর বিধির সপ্তম উপবিধি অনুযায়ী, আবেদন নামঞ্জুরের আদেশে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
অন্যদিকে, আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রয়েছে। নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্ধারিত নম্বর প্লেট সরবরাহ করা হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
নতুন বিধিমালার ফলে ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীদের বয়স, নাগরিকত্ব, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যানবাহনের প্রযুক্তিগত মান সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব নথি ঠিক আছে কি না এবং ই-রিকশাটি নির্ধারিত ফিটনেস ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আবেদন বাতিল হলে লিখিত কারণ জানার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগও থাকছে।





















