০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ রুশ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর পরিকল্পনা

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
Print

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার জনবল বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। বর্তমানে নির্মাণ ও পরিচালনাসংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আরও ৫০৮ জন যুক্ত হলে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। তবে আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতির ওপর কর্মী পাঠানোর গতি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রোসাটমের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্সি লিখাচেভের বক্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে সেখানে জনবল বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো।

লিখাচেভ বলেন, বুশেহর কেন্দ্রের কর্মীসংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে কর্মী পাঠানোর গতি কমানো হতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে রোসাটম।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত বুশেহর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০১১ সালে। বর্তমানে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন ইউনিটগুলো নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রুশ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

রোসাটমের প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, বুশেহরে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অতিরিক্ত আটটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে।

রাশিয়া ও ইরানের পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকের পুরোনো। বুশেহর কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন ইউনিট নির্মাণ এবং জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণে মস্কোর ভূমিকা আরও বাড়বে।

তবে নতুন জনবল পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষিত হলেও পুরো ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞের যাত্রা বা যোগদানের নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতির ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ রুশ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর পরিকল্পনা

Update Time : ০২:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Print

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার জনবল বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। বর্তমানে নির্মাণ ও পরিচালনাসংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আরও ৫০৮ জন যুক্ত হলে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। তবে আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতির ওপর কর্মী পাঠানোর গতি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রোসাটমের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্সি লিখাচেভের বক্তব্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে সেখানে জনবল বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো।

লিখাচেভ বলেন, বুশেহর কেন্দ্রের কর্মীসংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে কর্মী পাঠানোর গতি কমানো হতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে রোসাটম।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত বুশেহর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০১১ সালে। বর্তমানে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন ইউনিটগুলো নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রুশ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

রোসাটমের প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, বুশেহরে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অতিরিক্ত আটটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে।

রাশিয়া ও ইরানের পারমাণবিক সহযোগিতা কয়েক দশকের পুরোনো। বুশেহর কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন ইউনিট নির্মাণ এবং জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণে মস্কোর ভূমিকা আরও বাড়বে।

তবে নতুন জনবল পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষিত হলেও পুরো ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞের যাত্রা বা যোগদানের নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতির ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।