০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলে পড়তেই পাইলট, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২০ বছরের নাথালিয়ার

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 3
Print

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিয়ারজেটের সহকারী পাইলট হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাস। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্কুলে পড়ার সময় ব্যক্তিগত পাইলটের লাইসেন্স পেয়েছিলেন তিনি। বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র নয় মাস আগে। তাঁর অকালমৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনেরা।

গত রোববার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করা লিয়ারজেট-৬০ উড়োজাহাজটি ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নামতে থাকে। প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারানোর পর মাটিতে আছড়ে পড়ে এতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা নয়জনের সবাই নিহত হন।

নাথালিয়ার মা ক্যামিলা ও সৎবাবা থিয়াগো কোরতেলেতি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, নাথালিয়ার প্রায় ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল।

সৎবাবা থিয়াগো জানান, দুর্ঘটনার মাত্র ১০ মিনিট আগে প্রেমিক জাস্টিনকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন নাথালিয়া। ওই বার্তায় উড়োজাহাজে ঝাঁকুনি এবং বরফ জমার সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত মা ক্যামিলা বলেন, তিনি চেয়েছিলেন মেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক। তবে মনে মনে আশঙ্কা করতেন, একদিন সেই স্বপ্নই হয়তো মেয়েকে তাঁর কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে। বিমান চালানোর প্রতি নাথালিয়ার গভীর ভালোবাসার কথা জানতেন তিনি।

ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে বেড়ে ওঠা নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ২০১৮ সালে তাঁর বাবা শখের বশে বিমান চালানো শেখেন। বাবার ছোট বিমানে চড়েই উড়োজাহাজ চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় নাথালিয়ার।

২০২০ সালে পাইলট প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যক্তিগত পাইলটের লাইসেন্স পান। তখনো তাঁর গাড়ি চালানোর লাইসেন্স হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাথালিয়া বলেছিলেন, মানুষ যখন তাঁকে গাড়ি চালাতে না পারার কথা বলে, তখন তিনি জবাব দেন—তিনি তো বিমান চালাতে পারেন।

ওয়েস্ট বোকা র্যাটন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী নাথালিয়া পরে ফ্লোরিডার একটি ফ্লাইট স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর স্বপ্ন ছিল একদিন আমেরিকান এয়ারলাইনসের পাইলট হওয়া।

মা ক্যামিলা বলেন, নাথালিয়ার দক্ষতা ও কাজের প্রতি ভালোবাসা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হতেন। বিমান চালানোই ছিল মেয়ের সবচেয়ে পছন্দের পেশা। কিন্তু এত অল্প বয়সে তাঁকে হারাতে হবে, তা কখনো ভাবেননি তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

স্কুলে পড়তেই পাইলট, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২০ বছরের নাথালিয়ার

Update Time : ০৮:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Print

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিয়ারজেটের সহকারী পাইলট হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাস। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্কুলে পড়ার সময় ব্যক্তিগত পাইলটের লাইসেন্স পেয়েছিলেন তিনি। বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র নয় মাস আগে। তাঁর অকালমৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনেরা।

গত রোববার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করা লিয়ারজেট-৬০ উড়োজাহাজটি ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নামতে থাকে। প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারানোর পর মাটিতে আছড়ে পড়ে এতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা নয়জনের সবাই নিহত হন।

নাথালিয়ার মা ক্যামিলা ও সৎবাবা থিয়াগো কোরতেলেতি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, নাথালিয়ার প্রায় ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল।

সৎবাবা থিয়াগো জানান, দুর্ঘটনার মাত্র ১০ মিনিট আগে প্রেমিক জাস্টিনকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন নাথালিয়া। ওই বার্তায় উড়োজাহাজে ঝাঁকুনি এবং বরফ জমার সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত মা ক্যামিলা বলেন, তিনি চেয়েছিলেন মেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক। তবে মনে মনে আশঙ্কা করতেন, একদিন সেই স্বপ্নই হয়তো মেয়েকে তাঁর কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে। বিমান চালানোর প্রতি নাথালিয়ার গভীর ভালোবাসার কথা জানতেন তিনি।

ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে বেড়ে ওঠা নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ২০১৮ সালে তাঁর বাবা শখের বশে বিমান চালানো শেখেন। বাবার ছোট বিমানে চড়েই উড়োজাহাজ চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় নাথালিয়ার।

২০২০ সালে পাইলট প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যক্তিগত পাইলটের লাইসেন্স পান। তখনো তাঁর গাড়ি চালানোর লাইসেন্স হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাথালিয়া বলেছিলেন, মানুষ যখন তাঁকে গাড়ি চালাতে না পারার কথা বলে, তখন তিনি জবাব দেন—তিনি তো বিমান চালাতে পারেন।

ওয়েস্ট বোকা র্যাটন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী নাথালিয়া পরে ফ্লোরিডার একটি ফ্লাইট স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর স্বপ্ন ছিল একদিন আমেরিকান এয়ারলাইনসের পাইলট হওয়া।

মা ক্যামিলা বলেন, নাথালিয়ার দক্ষতা ও কাজের প্রতি ভালোবাসা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হতেন। বিমান চালানোই ছিল মেয়ের সবচেয়ে পছন্দের পেশা। কিন্তু এত অল্প বয়সে তাঁকে হারাতে হবে, তা কখনো ভাবেননি তিনি।